গণভোট চাই, পাতানো ফাঁদ নয়: হামিদুর রহমান আযাদ

- আপডেট সময় ০৭:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৫৯ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ১৮ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি দলটি আসন্ন নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, নির্বাচনী পরিবেশ স্বচ্ছ রাখা এবং “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরে জামায়াতের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ চায় জামায়াত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ‘জুলাই সনদের আদেশ’ বাস্তবায়ন সহজ হবে। তবে একইদিনে গণভোট হলে তা ইগনোরেবল হয়ে যেতে পারে। কমভোটে গণভোট হলে তা নিয়ে টালবাহানা হতে পারে। আমরা কোনো পাতানো ফাঁদে পা দিতে চাই না।”
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, “আমরা চাই সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে অধ্যাদেশ নয়, বরং আদেশ জারি করুক—যা দ্রুত করা সম্ভব। গণভোট হলে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি পাবে।”
জামায়াত প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কমিশনের নেওয়া অ্যাপভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় নানা বিভ্রান্তি ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেকে এটি ভোটার নিবন্ধন ভেবে ভুল করছেন। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে অঞ্চলভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হবে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারের আহ্বান জানায় জামায়াত।
বৈঠকে জামায়াত কমিশনের কাছে তাদের আগের দেওয়া ১৮ দফা প্রস্তাবের অগ্রগতি ও সিদ্ধান্ত জানতে চায়। দলটি ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছে এবং সময়সূচি পরিবর্তন না করার আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “জোট নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের মৌলিক বিষয়গুলোর সমাধান এলে তবেই আমরা জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। বর্তমানে আমরা আটটি সমমনা দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করছি—এটি কোনো জোট নয়।”
তিনি আরও জানান, “আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে মিউচ্যুয়াল ভিত্তিতে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থাৎ, এক দল কোনো আসনে প্রার্থী দিলে অন্য দল সেখানে প্রার্থী দেবে না।”
এ সময় তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইসলামী দলগুলোর বাইরে দেশপ্রেমিক অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ তালিকায় নতুন দল যুক্ত হতে পারে।
জাতীয় পার্টি (জাপা) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জাপার সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমঝোতার সুযোগ নেই। তারা ফ্যাসিস্টের দোসর, বরং নাম্বার ওয়ান দোসর। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, “গণভোটের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান আছে। দাবি আদায় না হলে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আগামীকাল সকাল ১১টায় আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগেই করার জন্য স্মারকলিপি দেবো।”
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংস্কার ও নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আটটি দল একত্রিত হয়েছে এবং ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যেকোনো ধরনের বাধা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং গণভোট আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিতে হবে।




















