মগনামা–কুতুবদিয়া নৌরুটে সি-ট্রাক চালুর পথে অগ্রগতি, কুতুবদিয়াবাসীকে ড. হামিদুর রহমান আযাদের অভিনন্দন

- আপডেট সময় ০৭:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৪৮৩ বার পড়া হয়েছে
কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:
মগনামা–কুতুবদিয়া নৌরুটে সি-ট্রাক চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় কুতুবদিয়াবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া–মহেশখালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ।
এক প্রতিক্রিয়ায় ড. আযাদ বলেন, “কুতুবদিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে মগনামা–কুতুবদিয়া নৌরুটে সি-ট্রাক চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, কুতুবদিয়া নৌপথে ফেরি ও সি-ট্রাক চালুর দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করে আসছেন। ২০২৫ সালের বর্ষা মৌসুম শুরুর পূর্বে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব ফাওজুল কবিরের কাছে মগনামা–কুতুবদিয়া নৌরুটে ফেরি ও সি-ট্রাক চালুর দাবিতে একটি ডিও লেটার প্রদান করেন। পরবর্তীতে ৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে এ বিষয়ে আহ্বান জানালে নীতিগত সম্মতি পাওয়া যায়।
এর ধারাবাহিকতায় ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ফেরি ও সি-ট্রাক চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবিতে নৌপরিবহন উপদেষ্টার নিকট পৃথক আরেকটি ডিও লেটার দেন ড. আযাদ। পাশাপাশি নৌপরিবহন ও পানিসম্পদ সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা পর্যায়ে একাধিকবার সাক্ষাৎ করে কুতুবদিয়া নৌরুটে ফেরি ও সি-ট্রাক চালুর তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে মহেশখালী–কুতুবদিয়া উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্র তীরভাঙন রোধ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ড. আযাদ বলেন, “সি-ট্রাক চালু হলে ছাত্রছাত্রী, নারী, রোগী, প্রবীণসহ সব শ্রেণির মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি টেকসই ফেরি সার্ভিস চালু হলে কুতুবদিয়ার যোগাযোগ সমস্যার একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে সমাধান হবে।” দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে মগনামা–কুতুবদিয়া সেতু বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জনমত গঠন ও সরকারি আগ্রহ সৃষ্টিতে সব ফোরামে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে কুতুবদিয়া দ্বীপকে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও নোনা পানির অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষায় দ্বীপের চারদিকে সুপার ডাইক নির্মাণ কুতুবদিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। ড. হামিদুর রহমান আযাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় সরকার ইতোমধ্যে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৯৯৯.৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন পর্যায়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
তিন ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুতুবদিয়া দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং দ্বীপের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন ড. আযাদ।


















