আল-কুরআনের ভাষ্যকার ও কালের মুয়াজ্জিন: শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

- আপডেট সময় ০৭:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০৩ বার পড়া হয়েছে
ভূমিকা:
ইসলামী ইতিহাস, দাওয়াহ ও চিন্তার বহমান ধারায় যুগে যুগে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মনীষীর আগমন ঘটে, যাঁদের কণ্ঠস্বর ভৌগোলিক সীমানা ও যুগের গণ্ডি অতিক্রম করে সত্যের এক অমলিন ও প্রজ্জ্বলিত মশাল হয়ে জ্বলে থাকে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আল-কুরআনের মুখপাত্র এবং চিন্তার ময়দানে বাতিলের বিরুদ্ধে এক আপসহীন দুর্গ হিসেবে মধ্যযুগে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছিলেন শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ)। আর এই আধুনিক যুগে, বিশেষ করে সমকালীন বাংলাভাষী অঞ্চলসহ সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কোটি মানুষের অন্তরে আল-কুরআনের চিরায়ত, প্রাঞ্জল ও সুরময় ভাষ্যকার হিসেবে যিনি অনন্য ও সুউচ্চ স্থান অধিকার করে নিয়েছেন, তিনি হলেন শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রাহিমাহুল্লাহ)।
বাংলা ভাষায় ইসলামী দাওয়াহ, প্রাঞ্জল বক্তৃতা ও ক্লাসিক বাগ্মিতার ইতিহাসে তিনি শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না; বরং তিনি নিজেই ছিলেন এক বৈপ্লবিক যুগ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ এক প্রতিষ্ঠান। তাঁর পূর্বেও বহু প্রাজ্ঞ আলেম ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর পরেও অনেকে ময়দানে এসেছেন; কিন্তু আল্লামা সাঈদীর মতো হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপনা, নিখুঁত তথ্য বিশ্লেষণ, গভীর জ্ঞান, ব্যাকরণগত বিশুদ্ধতা এবং আবেগ ও যুক্তির এমন চমৎকার সংমিশ্রণ আর কারও মাঝে দেখা যায়নি।
তিনি ছিলেন দ্বিমাত্রিক এক কালজয়ী ব্যক্তিত্ব—একদিকে ইসলামের বিশুদ্ধ ও আবেগঘন দাঈ, অন্যদিকে আপসহীন ও সচেতন রাজনীতিক। তবে রাজনীতিকে তিনি কখনো ক্ষমতার মোহ কিংবা জাগতিক স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি; বরং রাজনীতি ছিল তাঁর কাছে ঈমানী আমানতদারিতা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের এক অপরিহার্য ইবাদত।
দিকভ্রান্ত কোটি তরুণের রূহানী শিক্ষক:
যে সমাজে জাহিলিয়াত, বস্তুবাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক অনৈতিকতার কুয়াশায় যুবসমাজের ঈমানি চেতনা ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল; যাঁদের জীবন সংশয়, হতাশা আর বিভ্রান্তির চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছিল—তাদের জন্য আল্লামা সাঈদী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন পরম এক আলোকবর্তিকা। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে প্রথাগত ওয়াজ-মাহফিলের গণ্ডি ভেঙে আধুনিক ও শিক্ষিত যুবসমাজকে আল-কুরআনের অমৃত সুধা আস্বাদন করিয়েছিলেন।
লাখো মানুষের বিশাল ময়দানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তিনি যে কুরআনের সুর ও যুক্তি দিয়ে বক্তব্য রাখতেন, তা বিশ্বপালনকর্তার পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিয়ামত ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁর তিলাওয়াত শুনে মানুষের চোখে জল আসত, তাঁর যুক্তি শুনে বিবেক জাগ্রত হতো, আর তাঁর কণ্ঠে তাওহীদের বাণী শুনে হাজারো মানুষ পাপের অন্ধকার ছেড়ে সত্য ও সুন্দর জীবনের পথে ফিরে আসত।
কাব্যিক অনুভূতির গভীরতায় কোটি ভক্ত ও তাওহীদি জনতার সেই মনের আকুতি আজও অনুরণিত হয়:
যার ডাকে আসতো ফিরে
আঁধারে ডুবে থাকা কত পথহীন,
পাপের কালিমা মুছে ফেলে
করতো নিজেকে রবেতে বিলীন—
আল্লামা সাঈদী আজও অমলিন।
তিনি কেবল ময়দানের বিশাল জনসমুদ্রেই তাফসীরের বাণী শুনাননি; বরং দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী স্থান জাতীয় সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়িয়েও শিরকি প্রথা, সামাজিক অনাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, কীভাবে কুরআন একজন মুমিনের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেরও মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।
দূরদর্শী প্রজ্ঞা ও আগাম সতর্কবার্তা:
সময়ের বালুচরে দাঁড়িয়ে আল্লামা সাঈদী (রাহিমাহুল্লাহ) যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে গেছেন, তা আজও প্রতিটি সচেতন মানুষের মনে গভীর বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তির কুচক্র এবং উম্মাহর আসন্ন দুর্যোগ সম্পর্কে তিনি ছিলেন গভীরভাবে অবহিত। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন ময়দানের সুবিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন তাঁর সেই কালজয়ী ঐতিহাসিক সতর্কবার্তা:
“আগামীতে আপনাদের সাথে আবার দেখা হবে কিনা জানি না, আজ আমাকে কথা বলতেই হবে। আমি দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে উত্তর গগনে কালো মেঘ জমা হয়েছে। ঝড়ের পূর্বাভাস লক্ষ্য করছি। যদি মোকাবিলা করতে না পারেন সক্ষমভাবে, তবে এমন গাঢ় কালো অমাবস্যার রাত আসতে পারে—যার সুবেহ সাদিক হওয়া অসম্ভব।
সুতরাং, আপনারা কি কাপুরুষের মতো কাফের-মুশরেকদের গোলামি করে মরতে চান? শুনে রাখো মুসলমান! বিড়ালের মতো ৫০০ বছর বেঁচে থেকে কোনো লাভ নেই, সিংহের মতো ১ ঘণ্টা বাঁচতে চাই।”
তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন যে, বাতেল ও তাগুত শক্তির সামনে নতিস্বীকার করা মুমিনের চরিত্র হতে পারে না। আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য যে চরম ত্যাগ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পার হতে হয়, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি নির্ভীকচিত্তে ঘোষণা করেছিলেন:
“আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে চাইলে অসংখ্য মানুষকে জেলখানায় পচে মরতে হবে, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে, গায়ের রক্ত দিতে হবে, শহীদ হতে হবে।”
আদালতের কাঠগড়ায় সত্যের প্রতিধ্বনি:
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, চরিত্রহনন ও মিথ্যা মামলার বেড়াজালে বন্দী করে যখন ৮২ বছরের জ্যৈষ্ঠ ও অসুস্থ এই আলেমকে বিচারের প্রহসনে দাঁড় করানো হয়েছিল, তখনও শত প্রলোভন ও মৃত্যুর ভয় কাটিয়ে তিনি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সত্যের যে ঝংকার তুলেছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় চিরদিনের জন্য অম্লান হয়ে থাকবে।
তথাকথিত ‘যাকাতের ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের’ মতো নিকৃষ্ট ও বানোয়াট মামলার চার্জ গঠনের প্রাক্কালে আদালতের অনুমতিক্রমে তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে ২-৩ মিনিটের সংক্ষিপ্ত ভাষণে যে রাজসিক বক্তব্য রেখেছিলেন, তা সত্যের পক্ষে এক কালজয়ী জবানবন্দি:
“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হয়রানি ও আমার চরিত্রহননের হীন উদ্দেশ্যেই আমাকে ‘যাকাতের টাকা আত্মসাতের’ মতো নিকৃষ্ট মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সাথে আমার বিন্দুবিসর্গ সম্পর্ক নেই। আমি আমার আল্লাহকে সাক্ষী করে বলছি, যাকাতের এই টাকা আমি দেখি নাই, ধরি নাই, তালিকা করি নাই, বিতরণও করি নাই।
সবাইকেই একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। অন্যায়ভাবে যারা আমার প্রতি জুলুম করছেন, তাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর আদালতে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ওয়াদা অনুযায়ী মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীরা হবে জাহান্নামী।
মাননীয় আদালত! আমার বয়স ৮২। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমি হার্ট, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের পেশেন্ট। আমি নির্দোষ। আমি আপনার কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। আপনি ন্যায়বিচার করুন। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনা করে হলেও মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানি মূলক এই নিকৃষ্ট মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিন। আল্লাহকে ভয় করুন।”
জালিমের তৈরি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি নূহের দৃঢ়তা, ইব্রাহিমের ঈমান এবং মুসার অকুতোভয় সাহসিকতার যে পরিচয় দিয়েছিলেন, তা প্রমাণ করে দুনিয়ার কোনো নশ্বর শক্তি তাঁকে এক চুল পরিমাণও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন—দুনিয়ার অস্থায়ী আদালতের উর্ধ্বে এক পরম বিচারকের আদালত রয়েছে, যেখানে প্রতিটি মিথ্যাচার, জুলুম ও ষড়যন্ত্রের পই পই হিসাব দিতে হবে।
‘আমি কেন জামায়াতে ইসলামী করি’:
আল্লামা সাঈদী (রাহিমাহুল্লাহ) কেবল এক মুগ্ধকর সুরের বক্তাই ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক পরিচ্ছন্ন চিন্তাবিদ ও সুনির্দিষ্ট দর্শনে বিশ্বাসী এক সিপাহসালার। ‘আমি কেন জামায়াতে ইসলামী করি’ এবং ‘নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে’ গ্রন্থদ্বয়ে তিনি তাঁর জীবনের মূল মিশন ও বৈপ্লবিক আকিদার ৫টি মৌলিক স্তম্ভ পেশ করেছেন:
১. কুফরী মতবাদের প্রত্যাখ্যান: প্রচলিত ভোগবাদী ধনতন্ত্র, নাস্তিক্যবাদী সমাজতন্ত্র, এবং পাশ্চাত্যের ধর্মহীন গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ মৌলিকভাবে কুরআন-সুন্নাহর চরম সাংঘর্ষিক ও বাতিল মতবাদ। এসব মতবাদের বৈষয়িক দাসত্ব মুসলিম উম্মাহর ঈমানকে বিনাশ করে।
২. ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: মুসলিমদের ঈমান, আকিদা ও সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনব্যবস্থার আদলে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য, যেখানে মুসলিম ও অমুসলিম প্রতিটি নাগরিক সমান মৌলিক অধিকার, সুরক্ষা ও পূর্ণ ন্যায়বিচার লাভ করবে।
৩. সংগঠিত প্রয়াসের প্রয়োজনীয়তা: একক বা বিচ্ছিন্নভাবে কখনো আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি আদর্শবাদী, সুশৃঙ্খল, ও তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত শক্তিশালী সংগঠন, যা নিয়মতান্ত্রিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত নেতৃত্ব তৈরি করবে।
৪. একমাত্র লক্ষ্য—রেজায়ে মাওলা: ‘জামায়াতে ইসলামী’ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নয়; এর একমাত্র লক্ষ্য—‘আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা’।
৫. সাঈদীর অঙ্গীকার: আল্লামা সাঈদী (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, তাঁর নিজস্ব আকিদা ও চিন্তা-চেতনার সাথে জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচির কোনো পার্থক্য নেই। ফলে তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনকে সফল করতে নিজের মেধা, শক্তি, সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়েছিলেন।
সমালোচক ও হিংসুকদের উদ্দেশ্যে তিনি সগর্বে উচ্চকণ্ঠে বলতেন: “জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামী দল নয়, এমন কথা আজ পর্যন্ত কোনো বেয়াদবও বলতে পারে নাই।”
উম্মাহর অধঃপতন ও ইকবালের সুর:
বিশ্বজুড়ে মুসলিম মিল্লাতের চরম অধঃপতন দেখে তাঁর হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠত। তিনি অনুতাপ প্রকাশ করে বলতেন, যে জাতি বিশ্ব শাসন করার কথা ছিল, তারা কুরআন ছেড়ে আজ মানব রচিত বাতিল মতবাদের পেছনে ছুটছে। মক্কা-মদীনার পথ ছেড়ে তারা ওয়াশিংটন, লন্ডন, মস্কো ও দিল্লীর গোলামিতে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি উম্মাহকে সতর্ক করে দিয়ে বলতেন, ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না। তবুও তিনি কখনো হতাশ হননি। নিজের লিখিত ‘নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে’ গ্রন্থের ভূমিকার শেষে তিনি বিশ্বকবি আল্লামা ইকবালের একটি ঐতিহাসিক কবিতার বঙ্গানুবাদ যুক্ত করে উম্মাহকে আশার বাণী শুনিয়েছিলেন:
“অশ্রু ফেলো না হে মালী! দৈন্য তোমার মালঞ্চের,
ফুটিবে কুঁড়িরা তারার মতন, নব বসন্ত আসিবে ফের।
সব রিক্ততা অবসান হবে নব পল্লব গৌরবে,
শহিদী রক্তের রং মেখে ফের ফুটিবে গোলাপ সৌরভে।”
উপসংহার:
পরিকল্পিত কারাগারের অন্ধকার কিংবা শারীরিক অসুস্থতা—কোনো কিছুই আল্লামা সাঈদী (রাহিমাহুল্লাহ)-র আদর্শকে স্তব্ধ করতে পারেনি। তিনি তাঁর রবের ডাকে সাড়া দিয়ে এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে শাহাদাতের পেয়ালা পান করে চলে গেছেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া সুরময় কুরআন তাফসীর, ঐতিহাসিক বক্তৃতা, দূরদর্শী বক্তব্য এবং আপসহীন শাহাদাতের চেতনা বাংলাভাষী প্রতিটি মুসলিমের ধমণীতে অমর হয়ে আছে।
ইতিহাস যেমন বনের সিংহকে ভোলে না, তেমনি সত্যপিয়াসী তাওহীদি জনতাও কুরআনের এই দূরদর্শী পাখিকে কোনোদিন ভুলে যাবে না। যে বৈপ্লবিক বার্তা ও আশার সুবেহ সাদিকের পথ তিনি দেখিয়ে গেছেন, তাঁর অনুসারী হাজারো তরুণ আজ সেই পথে অবিচল থেকে পথ চলছে। জুলুমের কালো মেঘ কেটে কুরআনের সূর্য যেদিন উদিত হবে, সেদিন ইতিহাসের পাতায় শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম এক সুউচ্চ ও বীরত্বপূর্ণ শিখরে জ্বলজ্বল করবে—ইনশাআল্লাহ।
✍️ আল্লামা সাঈদীর বক্তব্যে আল-কুরআনের পথ খুঁজে পাওয়া আল্লাহর গোলাম আলী ওসমান শেফায়েত।














