কক্সবাজার ১১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের সাড়ে ৮ মাসে পাঁচ দফা দাম বৃদ্ধি, ১২ কেজির এলপিজি এখন ২ হাজার ৬০ টাকা

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১০:০৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে

সরকারের সাড়ে আট মাসে পাঁচ দফায় ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে চার দফায় দাম কমানো হলেও সব সমন্বয় শেষে সিলিন্ডারপ্রতি নিট মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭০৪ টাকা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারিত দামের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ২ নভেম্বর সর্বশেষ সমন্বয়ের পর দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। অর্থাৎ সাড়ে আট মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ৫১.৯২ শতাংশ।

 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মূল্য সমন্বয়ের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরবর্তী সময়ে ভ্যাট-সংক্রান্ত সমন্বয়ের পর ২৪ ফেব্রুয়ারি দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এরপর এপ্রিল মাসে দুই দফায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ২ এপ্রিল একবারে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়। মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলের এই দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়েছিল এলপিজির দাম। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

 

জুন ও জুলাই মাসে পরপর দুই দফায় দাম কমানো হয়। ২ জুন ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং ২ জুলাই আরও ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২ আগস্ট ৭০ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা করা হয়। ২ সেপ্টেম্বর ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তী দুই মাসে আবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।

 

গত ৪ অক্টোবর ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মাত্র ২৯ দিনের ব্যবধানে ২ নভেম্বর আরও ২২৩ টাকা বাড়িয়ে দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

মূল্য পরিবর্তনের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে পাঁচ দফায় দাম বেড়েছে। ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা, ১৯ এপ্রিল ২১২ টাকা, ২ আগস্ট ৭০ টাকা, ৪ অক্টোবর ২৫২ টাকা এবং ২ নভেম্বর ২২৩ টাকা। সব মিলিয়ে মোট মূল্যবৃদ্ধি ১ হাজার ১৪৪ টাকা।

 

অন্যদিকে চার দফায় দাম কমানো হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৫ টাকা, ২ জুন ৫৫ টাকা, ২ জুলাই ৩৫৭ টাকা এবং ২ সেপ্টেম্বর ১৩ টাকা। সব মিলিয়ে মোট মূল্যহ্রাস ৪৪০ টাকা। ফলে সব সমন্বয় শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২ নভেম্বর ১২ কেজি এলপিজির দাম নিট বেড়েছে ৭০৪ টাকা।

 

এলপিজির ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়ছে। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজিনির্ভর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি—সব মিলিয়ে পারিবারিক ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

এ অবস্থায় এলপিজির মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যের পাশাপাশি আমদানি ব্যয়, বাজারে সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিইআরসি নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

 

উল্লেখ্য, এখানে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্যের পরিবর্তন বিবেচনা করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারের সাড়ে ৮ মাসে পাঁচ দফা দাম বৃদ্ধি, ১২ কেজির এলপিজি এখন ২ হাজার ৬০ টাকা

আপডেট সময় ১০:০৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সরকারের সাড়ে আট মাসে পাঁচ দফায় ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে চার দফায় দাম কমানো হলেও সব সমন্বয় শেষে সিলিন্ডারপ্রতি নিট মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭০৪ টাকা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারিত দামের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ২ নভেম্বর সর্বশেষ সমন্বয়ের পর দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। অর্থাৎ সাড়ে আট মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ৫১.৯২ শতাংশ।

 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মূল্য সমন্বয়ের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরবর্তী সময়ে ভ্যাট-সংক্রান্ত সমন্বয়ের পর ২৪ ফেব্রুয়ারি দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

এরপর এপ্রিল মাসে দুই দফায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ২ এপ্রিল একবারে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়। মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলের এই দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়েছিল এলপিজির দাম। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

 

জুন ও জুলাই মাসে পরপর দুই দফায় দাম কমানো হয়। ২ জুন ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং ২ জুলাই আরও ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২ আগস্ট ৭০ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা করা হয়। ২ সেপ্টেম্বর ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তী দুই মাসে আবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।

 

গত ৪ অক্টোবর ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মাত্র ২৯ দিনের ব্যবধানে ২ নভেম্বর আরও ২২৩ টাকা বাড়িয়ে দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

মূল্য পরিবর্তনের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে পাঁচ দফায় দাম বেড়েছে। ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা, ১৯ এপ্রিল ২১২ টাকা, ২ আগস্ট ৭০ টাকা, ৪ অক্টোবর ২৫২ টাকা এবং ২ নভেম্বর ২২৩ টাকা। সব মিলিয়ে মোট মূল্যবৃদ্ধি ১ হাজার ১৪৪ টাকা।

 

অন্যদিকে চার দফায় দাম কমানো হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৫ টাকা, ২ জুন ৫৫ টাকা, ২ জুলাই ৩৫৭ টাকা এবং ২ সেপ্টেম্বর ১৩ টাকা। সব মিলিয়ে মোট মূল্যহ্রাস ৪৪০ টাকা। ফলে সব সমন্বয় শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২ নভেম্বর ১২ কেজি এলপিজির দাম নিট বেড়েছে ৭০৪ টাকা।

 

এলপিজির ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়ছে। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজিনির্ভর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি—সব মিলিয়ে পারিবারিক ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

এ অবস্থায় এলপিজির মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যের পাশাপাশি আমদানি ব্যয়, বাজারে সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিইআরসি নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

 

উল্লেখ্য, এখানে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্যের পরিবর্তন বিবেচনা করা হয়েছে।