ক্ষয়ক্ষতি অন্তত ৩০ লাখ টাকাসহ পার্শ্ববর্তী ২ দোকানের মালামাল চুরির অভিযোগ
কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ বাজারে আগুনে ৬ পরিবারের ৩টি ঘর পুড়ে ছাই

- আপডেট সময় ০৬:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ২৭২ বার পড়া হয়েছে
কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:
কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ বাজারের ভন পুকুরসংলগ্ন ব্রাহ্মণ পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় পরিবারের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসাবধানতা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
খবর পেয়ে কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানা যায়, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের ঘর মুহূর্তেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। এতে বাদল শীল, সারদা শীল ও ললিত শীল পরিবারের তিনটি সেমিপাকা ও আধাকাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত সৌরভ শীল বলেন, “কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে ফিরেছি। ঘরে আমার দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল আহমদ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসাবধানতা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে অনুমান করছি। ঘরগুলো কাঁচা ও সেমিপাকা হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। তবে নৌবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বড় ক্ষতি এড়ানো গেছে।”
ঘটনার পর কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পাশের দোকানগুলো থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ফাঁকে চুরির ঘটনাও ঘটে। টিআইকে টেইলারিংয়ের তাফসির জানান, তাঁর দোকান থেকে অন্তত ৫০ হাজার টাকার বেশি মালামাল চুরি গেছে। একইভাবে কাঠের দোকানদার নুরুল আজীমও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উদ্দিন ছোটন জানান, “আগুনে ৬টি পরিবার ও ২টি দোকানঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি চাল, মসুর ডাল, শুকনো খাবার, কাঁচা বাজার ও নগদ ২,০০০ টাকা করে সহযোগিতা দিয়েছি। পরবর্তীতে তাদের ঘর পুনর্নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহ: তপন শীল, পিতা— মৃত বাদল শীল; মন্টু শীল, পিতা— মৃত সারদা শীল; বলরাম শীল, পিতা— মৃত বাদল শীল; রবি শীল, পিতা— ললীত শীল; জনি শীল, পিতা— মন্টু শীল; লালন শীল, পিতা— মৃত ললীত শীল। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান: নুরুল আজীম, পিতা— মৃত আবদুল মোনাফ (কাঠ মিস্ত্রী); মো. ফরিদ, পিতা— মৃত কবির আহমদ (দর্জি)।
হঠাৎ এ অগ্নিকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বড় ধরনের প্রাণহানি না হওয়ায় স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেন। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসাবধানতা রোধে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
























