কক্সবাজার ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে মানব পাচারকারীর ঘাঁটি থেকে ৪ জন আটকসহ ৮ ভুক্তভোগী উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০১:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬২ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারকারী চক্রের একটি সক্রিয় ঘাঁটিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিশুসহ আটজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে পাচার চক্রের চার নারী সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজিবি জানায়, সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়া এলাকায় অভিযানে নামে বিজিবির একটি বিশেষ দল। মানব পাচারকারী আব্দুল মোতালেব ওরফে ‘কালা বদ্দা’র বাড়ি ঘেরাও করলে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় চার নারী পাচারকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।

আটকরা হলেন—আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) এবং সাহারা খাতুন (৬২)। তাঁরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। মানবপাচারকারী, চক্রের মূল হোতা মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০) অভিযানের সময় পালিয়ে যায় এবং তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, আটক চক্রটি বিভিন্ন এলাকায় চাকরি ও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে সংগ্রহ করত। পরে তাদের একটি নির্দিষ্ট ঘরে আটকে রেখে সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি নিত। সোমবার রাতে উদ্ধার হওয়া ছয় নারী ও দুই শিশুকে পাচারের আগমুহূর্তে সেখান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আটক চার নারী পাচারকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তারা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “মানব পাচার একটি ভয়াবহ অপরাধ। টেকনাফ সীমান্তকে মানব ও মাদক পাচারমুক্ত করতে বিজিবির অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টেকনাফে বিজিবির অভিযানে মানব পাচারকারীর ঘাঁটি থেকে ৪ জন আটকসহ ৮ ভুক্তভোগী উদ্ধার

আপডেট সময় ০১:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

টেকনাফ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারকারী চক্রের একটি সক্রিয় ঘাঁটিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিশুসহ আটজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে পাচার চক্রের চার নারী সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজিবি জানায়, সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়া এলাকায় অভিযানে নামে বিজিবির একটি বিশেষ দল। মানব পাচারকারী আব্দুল মোতালেব ওরফে ‘কালা বদ্দা’র বাড়ি ঘেরাও করলে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় চার নারী পাচারকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।

আটকরা হলেন—আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) এবং সাহারা খাতুন (৬২)। তাঁরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। মানবপাচারকারী, চক্রের মূল হোতা মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০) অভিযানের সময় পালিয়ে যায় এবং তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, আটক চক্রটি বিভিন্ন এলাকায় চাকরি ও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে সংগ্রহ করত। পরে তাদের একটি নির্দিষ্ট ঘরে আটকে রেখে সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি নিত। সোমবার রাতে উদ্ধার হওয়া ছয় নারী ও দুই শিশুকে পাচারের আগমুহূর্তে সেখান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আটক চার নারী পাচারকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তারা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “মানব পাচার একটি ভয়াবহ অপরাধ। টেকনাফ সীমান্তকে মানব ও মাদক পাচারমুক্ত করতে বিজিবির অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”