কক্সবাজার ০৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় ‘ভূমিকম্প-পরবর্তী ভবন সুরক্ষা স্ক্যান’ সেবা চালু করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৪:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৩০৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক:
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর রাজধানীবাসীর মধ্যে ভবন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাসা, অফিস, মার্কেট, দোকান বা যে কোনো স্থাপনার অস্থিতিশীলতা মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, প্রকৌশল বিভাগ একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে— “ভূমিকম্প-পরবর্তী ভবন সুরক্ষা স্ক্যান” সেবা।

সংগঠনের আমীর ডা. শফিকুর রহমান নিজস্ব ভেরিফাই ফেসবুক আইডি থেকে জানানো হয়, দক্ষ সিভিল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ টিম ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কাজ শুরু করেছে। ভবনের ক্ষয়ক্ষতি বা ঝুঁকি নির্ণয়ে এই সেবা সম্পূর্ণ ফ্রি প্রদান করা হচ্ছে।

প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ভূমিকম্পের পর যেসব লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন প্রয়োজন—দেয়াল বা কলামে ফাটল, ভবন হেলে বা বেকে যাওয়া, অস্বাভাবিক শব্দ বা কম্পন, দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি বা কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত।

যে ফ্রি সেবাগুলো দেওয়া হচ্ছে: ভবনের প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রয়োজনবোধে সাইট ভিজিট ও সরেজমিন পরিদর্শন, দৃশ্যমান ক্ষতি ও সম্ভাব্য বিপদের চিহ্ন শনাক্ত

নিরাপত্তা নির্দেশনা ও জরুরি করণীয়—ভিডিও ডকুমেন্টেশন ও প্রাথমিক রিপোর্ট, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হটলাইনে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যাবে।

জামায়াত আমীর তাঁর ফেসবুক বার্তায় বলেন, “ভূমিকম্পের পর আমরা সবাই একটি অস্থির ও দুশ্চিন্তাপূর্ণ সময় পার করছি। মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। এটা শুধু প্রযুক্তিগত কোন সেবা নয় বরং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া ভবনের ক্ষতির প্রকৃত অবস্থা জানা যায় না। তাই জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের ঝুঁকি চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।”

সংগঠনের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন চলছে। ধীরে ধীরে সেবার আওতা বাড়ানো হবে।

যোগাযোগের মাধ্যম: নাগরিকরা নিচের হটলাইন নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে সেবা বুকিং দিতে পারবেন—০১৩২৭ ১২ ১৯ ৫৫, ০১৩২৭ ১২ ৩০ ৯৯, ০১৩২৭ ১২ ৩০ ০১

ভূমিকম্পের পর সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ঝুঁকি নির্ণয় করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব, আর এই সেবা সেই দিকেই একটি ইতিবাচক সংযোজন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি”—এই নীতিতে দৃঢ় থেকে ভবিষ্যতেও জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকায় ‘ভূমিকম্প-পরবর্তী ভবন সুরক্ষা স্ক্যান’ সেবা চালু করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

আপডেট সময় ০৪:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিবেদক:
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর রাজধানীবাসীর মধ্যে ভবন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাসা, অফিস, মার্কেট, দোকান বা যে কোনো স্থাপনার অস্থিতিশীলতা মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, প্রকৌশল বিভাগ একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে— “ভূমিকম্প-পরবর্তী ভবন সুরক্ষা স্ক্যান” সেবা।

সংগঠনের আমীর ডা. শফিকুর রহমান নিজস্ব ভেরিফাই ফেসবুক আইডি থেকে জানানো হয়, দক্ষ সিভিল ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ টিম ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কাজ শুরু করেছে। ভবনের ক্ষয়ক্ষতি বা ঝুঁকি নির্ণয়ে এই সেবা সম্পূর্ণ ফ্রি প্রদান করা হচ্ছে।

প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ভূমিকম্পের পর যেসব লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন প্রয়োজন—দেয়াল বা কলামে ফাটল, ভবন হেলে বা বেকে যাওয়া, অস্বাভাবিক শব্দ বা কম্পন, দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি বা কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত।

যে ফ্রি সেবাগুলো দেওয়া হচ্ছে: ভবনের প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রয়োজনবোধে সাইট ভিজিট ও সরেজমিন পরিদর্শন, দৃশ্যমান ক্ষতি ও সম্ভাব্য বিপদের চিহ্ন শনাক্ত

নিরাপত্তা নির্দেশনা ও জরুরি করণীয়—ভিডিও ডকুমেন্টেশন ও প্রাথমিক রিপোর্ট, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হটলাইনে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যাবে।

জামায়াত আমীর তাঁর ফেসবুক বার্তায় বলেন, “ভূমিকম্পের পর আমরা সবাই একটি অস্থির ও দুশ্চিন্তাপূর্ণ সময় পার করছি। মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। এটা শুধু প্রযুক্তিগত কোন সেবা নয় বরং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া ভবনের ক্ষতির প্রকৃত অবস্থা জানা যায় না। তাই জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের ঝুঁকি চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।”

সংগঠনের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন চলছে। ধীরে ধীরে সেবার আওতা বাড়ানো হবে।

যোগাযোগের মাধ্যম: নাগরিকরা নিচের হটলাইন নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে সেবা বুকিং দিতে পারবেন—০১৩২৭ ১২ ১৯ ৫৫, ০১৩২৭ ১২ ৩০ ৯৯, ০১৩২৭ ১২ ৩০ ০১

ভূমিকম্পের পর সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ঝুঁকি নির্ণয় করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব, আর এই সেবা সেই দিকেই একটি ইতিবাচক সংযোজন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি”—এই নীতিতে দৃঢ় থেকে ভবিষ্যতেও জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।