কক্সবাজার ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবা ও চোলাই মদসহ ২ পাচারকারী গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ১১:৩১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মাদকবিরোধী “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) একই দিনে পরপর দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় চোলাই মদ জব্দ করেছে। পৃথক দুই অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই মাদক পাচারকারীকে।

আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রথম প্রহরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি-এর নির্দেশনায় সাবরাং বিওপি দায়িত্বপূর্ণ জিন্নাখাল এলাকায় বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নাফ নদীর বিপরীতে জিন্নাখালে বিজিবি টহল দল কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় মাছ ধরার ছদ্মবেশে একটি নৌকা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে অগ্রসর হলে বিজিবি সদস্যরা তাদের পথ রুদ্ধ করে। তাৎক্ষণিক চাপে পাচারকারী দলের একজন সদস্য হাতের কালো ব্যাগসহ কাদায় ঝাঁপিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে। তার বহন করা ব্যাগ থেকে ৫০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

তবে পাচারকারী দলের আরো দুই সদস্য নৌকা নিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি—মো. গফুর আলম (২৪), পিতা–মো. শফি, গ্রাম–কচুবনিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার। অপর দু’জন অজ্ঞাত।

একই দিন সকাল ১০টার দিকে দমদমিয়া চেকপোস্টে কক্সবাজারগামী “পায়রা সার্ভিস” বাসে নিয়মিত তল্লাশি চালায় বিজিবি। এ সময় বিজিবির কে-৯ ডগ স্কোয়াডের ‘মেঘলা’ বাসের বক্সে রাখা মুরগির বিষ্ঠা ভর্তি বস্তায় সন্দেহজনক ঘ্রাণ পেয়ে মাদকের উপস্থিতি সংকেত দেয়। পরে বস্তা খুলে বিশেষভাবে লুকানো ২০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় এবং মদ বহনকারীকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি– মো. হেলাল উদ্দিন (৫০), পিতা–নজু মিয়া, গ্রাম–ফুলের ডেইল, হ্নীলা, টেকনাফ, কক্সবাজার।

২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন—“রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মানব ও মাদক পাচারসহ সকল আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আমাদের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, গত ১৬৮ ঘণ্টায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) মোট ০৮টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৪,৯১,৯২০ পিস ইয়াবা, ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করেছে এবং ১২ জন আসামিকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছে।

ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত মাদক ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলমান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবা ও চোলাই মদসহ ২ পাচারকারী গ্রেফতার

আপডেট সময় ১১:৩১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

টেকনাফ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মাদকবিরোধী “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) একই দিনে পরপর দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় চোলাই মদ জব্দ করেছে। পৃথক দুই অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই মাদক পাচারকারীকে।

আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রথম প্রহরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি-এর নির্দেশনায় সাবরাং বিওপি দায়িত্বপূর্ণ জিন্নাখাল এলাকায় বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নাফ নদীর বিপরীতে জিন্নাখালে বিজিবি টহল দল কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় মাছ ধরার ছদ্মবেশে একটি নৌকা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে অগ্রসর হলে বিজিবি সদস্যরা তাদের পথ রুদ্ধ করে। তাৎক্ষণিক চাপে পাচারকারী দলের একজন সদস্য হাতের কালো ব্যাগসহ কাদায় ঝাঁপিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে। তার বহন করা ব্যাগ থেকে ৫০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

তবে পাচারকারী দলের আরো দুই সদস্য নৌকা নিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি—মো. গফুর আলম (২৪), পিতা–মো. শফি, গ্রাম–কচুবনিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার। অপর দু’জন অজ্ঞাত।

একই দিন সকাল ১০টার দিকে দমদমিয়া চেকপোস্টে কক্সবাজারগামী “পায়রা সার্ভিস” বাসে নিয়মিত তল্লাশি চালায় বিজিবি। এ সময় বিজিবির কে-৯ ডগ স্কোয়াডের ‘মেঘলা’ বাসের বক্সে রাখা মুরগির বিষ্ঠা ভর্তি বস্তায় সন্দেহজনক ঘ্রাণ পেয়ে মাদকের উপস্থিতি সংকেত দেয়। পরে বস্তা খুলে বিশেষভাবে লুকানো ২০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় এবং মদ বহনকারীকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি– মো. হেলাল উদ্দিন (৫০), পিতা–নজু মিয়া, গ্রাম–ফুলের ডেইল, হ্নীলা, টেকনাফ, কক্সবাজার।

২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন—“রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মানব ও মাদক পাচারসহ সকল আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আমাদের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, গত ১৬৮ ঘণ্টায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) মোট ০৮টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৪,৯১,৯২০ পিস ইয়াবা, ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করেছে এবং ১২ জন আসামিকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছে।

ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত মাদক ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলমান।