কক্সবাজার ০৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চকরিয়ার বিদায়ী ইউএনওর বিরুদ্ধে গণশুনানি আজ

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩০২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আয়োজিত এই গণশুনানি আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদের মিলনায়তন ‘মোহনা’-তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান চকরিয়ায় কর্মরত থাকাকালে একযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর প্রশাসক এবং পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল, হারবাং ও বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মাত্র এক বছর পাঁচ দিনের দায়িত্বকালেই শতকোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাগুজে কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের কাজ অনুমোদন এবং আংশিক কাজ দেখিয়ে পূর্ণ অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত রাস্তা, ড্রেন, সোলার লাইট, গৃহ নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত ভেঙে পড়ছে কিংবা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কুরবানির গুরুর হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের ইজারা প্রক্রিয়ায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নয়ছয় করা হয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ।

আরও পড়ুন: জাবির হল থেকে ২১ বোতল বিদেশি মদসহ ছাত্রদল কর্মী আটক

ইউএনও আতিকুর রহমান বদলি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চকরিয়ার সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব চিত্র, কাজের মান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশ করে দুর্নীতির বিচার দাবি করা হয়। এসব অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।

গত ২৪ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শামীম আল ইমরানের স্বাক্ষরিত এক সরকারি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার শত শত ভুক্তভোগী নাগরিক বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং জনগণের বক্তব্য সরাসরি শোনার লক্ষ্যে গণশুনানির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি চকরিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি নিয়মনীতি মেনে কাজ করার। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, তারা দায়িত্বে থাকাকালীন অবৈধ সুবিধা নিতে না পারায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ তুলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণশুনানিতে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, উপস্থাপিত নথিপত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চকরিয়ার বিদায়ী ইউএনওর বিরুদ্ধে গণশুনানি আজ

আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আয়োজিত এই গণশুনানি আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদের মিলনায়তন ‘মোহনা’-তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান চকরিয়ায় কর্মরত থাকাকালে একযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর প্রশাসক এবং পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল, হারবাং ও বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মাত্র এক বছর পাঁচ দিনের দায়িত্বকালেই শতকোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাগুজে কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের কাজ অনুমোদন এবং আংশিক কাজ দেখিয়ে পূর্ণ অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত রাস্তা, ড্রেন, সোলার লাইট, গৃহ নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত ভেঙে পড়ছে কিংবা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কুরবানির গুরুর হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের ইজারা প্রক্রিয়ায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নয়ছয় করা হয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ।

আরও পড়ুন: জাবির হল থেকে ২১ বোতল বিদেশি মদসহ ছাত্রদল কর্মী আটক

ইউএনও আতিকুর রহমান বদলি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চকরিয়ার সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব চিত্র, কাজের মান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশ করে দুর্নীতির বিচার দাবি করা হয়। এসব অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।

গত ২৪ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শামীম আল ইমরানের স্বাক্ষরিত এক সরকারি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভার শত শত ভুক্তভোগী নাগরিক বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং জনগণের বক্তব্য সরাসরি শোনার লক্ষ্যে গণশুনানির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি চকরিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি নিয়মনীতি মেনে কাজ করার। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, তারা দায়িত্বে থাকাকালীন অবৈধ সুবিধা নিতে না পারায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ তুলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণশুনানিতে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, উপস্থাপিত নথিপত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।