কক্সবাজার ০৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন ২ নারীসহ ৩৫ জন সাঁতারু

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সাগরপথ ‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতরে সফলভাবে পাড়ি দিয়েছেন ২ নারীসহ মোট ৩৫ জন সাঁতারু। তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকত থেকে সাঁতার শুরু করেন প্রতিযোগীরা। নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে তারা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে পৌঁছে সাঁতার শেষ করেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ৩৭ জন নাম নিবন্ধন করলেও চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন সাঁতারু অংশ নেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ক্রীড়া পরিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’-এর আয়োজনে এই সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

প্রতিযোগিতায় বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ঢাকসু) সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল। তিনি এর আগে ছয়বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে চ্যানেল অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এবারের প্রতিযোগিতায় সপ্তমবারের মতো অংশ নিয়ে প্রথম হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই অভিজ্ঞ সাঁতারু।

এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া দেশের প্রথম নারী সাঁতারু এমএসটি সোহাগী আক্তার, যা নারীদের অংশগ্রহণের দিক থেকে আয়োজনটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

‘কিং অব বাংলা চ্যানেল’ খ্যাত ২০ বার বাংলা চ্যানেল অতিক্রমকারী সাঁতারু ও ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার জানান, এবছর দুইজন নারীসহ মোট ৩৫ জন সাঁতারু আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি বলেন, প্রতিটি সাঁতারুর নিরাপত্তায় আলাদা বোট, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী ও মেডিকেল সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছিল।

এবারের আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। পাওয়ার্ড বাই পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত ছিল ডাইনামিক ডেন্টিস্ট্রি। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করে ভিসাথিং, স্টুডিও ঢাকা ও সরকার এগ্রো।

উল্লেখ্য, উত্তাল সাগর ও শক্তিশালী স্রোতের কারণে বাংলা চ্যানেল বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ওপেন ওয়াটার সুইমিং রুট হিসেবে পরিচিত। এই আয়োজন দেশের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

টেকনাফে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন ২ নারীসহ ৩৫ জন সাঁতারু

আপডেট সময় ১০:৫৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

টেকনাফ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সাগরপথ ‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতরে সফলভাবে পাড়ি দিয়েছেন ২ নারীসহ মোট ৩৫ জন সাঁতারু। তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকত থেকে সাঁতার শুরু করেন প্রতিযোগীরা। নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে তারা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে পৌঁছে সাঁতার শেষ করেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ৩৭ জন নাম নিবন্ধন করলেও চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন সাঁতারু অংশ নেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ক্রীড়া পরিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’-এর আয়োজনে এই সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

প্রতিযোগিতায় বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ঢাকসু) সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল। তিনি এর আগে ছয়বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে চ্যানেল অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এবারের প্রতিযোগিতায় সপ্তমবারের মতো অংশ নিয়ে প্রথম হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই অভিজ্ঞ সাঁতারু।

এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া দেশের প্রথম নারী সাঁতারু এমএসটি সোহাগী আক্তার, যা নারীদের অংশগ্রহণের দিক থেকে আয়োজনটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

‘কিং অব বাংলা চ্যানেল’ খ্যাত ২০ বার বাংলা চ্যানেল অতিক্রমকারী সাঁতারু ও ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার জানান, এবছর দুইজন নারীসহ মোট ৩৫ জন সাঁতারু আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি বলেন, প্রতিটি সাঁতারুর নিরাপত্তায় আলাদা বোট, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী ও মেডিকেল সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছিল।

এবারের আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। পাওয়ার্ড বাই পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত ছিল ডাইনামিক ডেন্টিস্ট্রি। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করে ভিসাথিং, স্টুডিও ঢাকা ও সরকার এগ্রো।

উল্লেখ্য, উত্তাল সাগর ও শক্তিশালী স্রোতের কারণে বাংলা চ্যানেল বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ওপেন ওয়াটার সুইমিং রুট হিসেবে পরিচিত। এই আয়োজন দেশের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।