কক্সবাজার ০৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলার চরফ্যাশনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে না যাওয়ায় নারীর মাথা ফাটালো যুবদল নেতা

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৯:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৬৪ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:
ভোলার চরফ্যাশনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে না যাওয়ায় হাজেরা বেগম (৫০) নামের এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচার চর মানিকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজেরা বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন চর মানিকা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা শাহাবুদ্দিন (৩৭), তিনি শাহাদাৎ হাওলাদারের ছেলে।

আহত হাজেরা বেগম বর্তমানে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাজেরা বেগম জানান, গত রবিবার অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন তাকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে এলাকায় যেতে বলেন। তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান। সোমবার সকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে বাড়ি থেকে বের হলে শাহাবুদ্দিন তার গতিরোধ করেন এবং কোথায় যাচ্ছেন জানতে চান। হাজেরা বেগম নিজের অবস্থান জানালে তাকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করতে নিষেধ করে হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “আমি তার কথা মানতে রাজি না হলে সে আমাকে গালিগালাজ করে মারধর শুরু করে। এ সময় আমাকে বাঁচাতে আমার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমা এগিয়ে এলে শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী লাইজু বেগম তাকেও মারধর করে এবং পেটে লাথি মারে।”

হাজেরা বেগম আরও অভিযোগ করেন, মারধরের একপর্যায়ে তার কান ছিঁড়ে কানের দুল নিয়ে যাওয়া হয় এবং কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা তার মাথায় ছয়টি সেলাই এবং ছিঁড়ে যাওয়া কানে দুটি সেলাই দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন নারী-পুরুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি তৈরি করে চলছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে স্থানীয় কেউ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না বলেও তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান কবির বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ভোলার চরফ্যাশনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে না যাওয়ায় নারীর মাথা ফাটালো যুবদল নেতা

আপডেট সময় ০৯:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:
ভোলার চরফ্যাশনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে না যাওয়ায় হাজেরা বেগম (৫০) নামের এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় তার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচার চর মানিকা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজেরা বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন চর মানিকা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা শাহাবুদ্দিন (৩৭), তিনি শাহাদাৎ হাওলাদারের ছেলে।

আহত হাজেরা বেগম বর্তমানে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাজেরা বেগম জানান, গত রবিবার অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন তাকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে এলাকায় যেতে বলেন। তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান। সোমবার সকালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে বাড়ি থেকে বের হলে শাহাবুদ্দিন তার গতিরোধ করেন এবং কোথায় যাচ্ছেন জানতে চান। হাজেরা বেগম নিজের অবস্থান জানালে তাকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করতে নিষেধ করে হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “আমি তার কথা মানতে রাজি না হলে সে আমাকে গালিগালাজ করে মারধর শুরু করে। এ সময় আমাকে বাঁচাতে আমার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে লিমা এগিয়ে এলে শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী লাইজু বেগম তাকেও মারধর করে এবং পেটে লাথি মারে।”

হাজেরা বেগম আরও অভিযোগ করেন, মারধরের একপর্যায়ে তার কান ছিঁড়ে কানের দুল নিয়ে যাওয়া হয় এবং কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা তার মাথায় ছয়টি সেলাই এবং ছিঁড়ে যাওয়া কানে দুটি সেলাই দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন নারী-পুরুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি তৈরি করে চলছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে স্থানীয় কেউ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না বলেও তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান কবির বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”