কক্সবাজার ০৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: আইনি ব্যাখ্যা শেষে নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৭:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

স্টাফ রিপোর্টার:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-০৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুরের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের আনীত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন বিজ্ঞ আইনজীবী ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের অধীন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি (২৯৬ কক্সবাজার-০৩)-এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তারা এসব কথা বলেন।

প্রার্থীর পক্ষে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল শেষে বিজ্ঞ আইনজীবীরা বলেন, “আমরা মাননীয় অনুসন্ধান কমিটির কাছে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছি যে, আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। ‘মহিমা ফাউন্ডেশন’ নামক যে প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযোগটি যাচাই করলেই প্রমাণিত হবে এটি স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দায়ের করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধির কোনো ধারাই এখানে লঙ্ঘিত হয়নি। আমরা আশা করি, বিজ্ঞ কমিটি দাখিলকৃত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে আমাদের প্রার্থীকে অব্যাহতি দেবেন।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও কক্সবাজার-০৩ আসন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আল আমীন মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার নয়, বরং নীতির রাজনীতি করে। আমাদের প্রার্থী শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। মাঠে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে দিশেহারা হয়ে প্রতিপক্ষ আজ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।”

কক্সবাজার শহর জামায়াতের সেক্রেটারি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির শহর শাখার পরিচালক রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল বলেন, “এই মিথ্যা অভিযোগ শুধু একজন প্রার্থীকে হয়রানি করার অপচেষ্টা নয়, বরং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র। জামায়াত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এর মোকাবিলা করছি।”

বক্তারা আরও বলেন, “আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় আমাদের প্রার্থীরা তফসিল ঘোষণার পরপরই নিজ দায়িত্বে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করেছেন। অথচ যারা অভিযোগ করছে, তারাই আচরণবিধি ভঙ্গের নজির রেখে চলেছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আকতার উদ্দিন হেলালী, সিনিয়র আইনজীবী জাফরুল্লাহ ইসলামাবাদী, এডভোকেট মুহাম্মদ নেজামুল হক, এডভোকেট আমিনুল হাসান, এডভোকেট সরওয়ার আলম মুন্নাসহ আসন পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্য ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো প্রকার গুজব বা উসকানিতে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: আইনি ব্যাখ্যা শেষে নেতৃবৃন্দ

আপডেট সময় ০৭:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-০৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুরের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের আনীত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন বিজ্ঞ আইনজীবী ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের অধীন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি (২৯৬ কক্সবাজার-০৩)-এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তারা এসব কথা বলেন।

প্রার্থীর পক্ষে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল শেষে বিজ্ঞ আইনজীবীরা বলেন, “আমরা মাননীয় অনুসন্ধান কমিটির কাছে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছি যে, আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। ‘মহিমা ফাউন্ডেশন’ নামক যে প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযোগটি যাচাই করলেই প্রমাণিত হবে এটি স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দায়ের করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধির কোনো ধারাই এখানে লঙ্ঘিত হয়নি। আমরা আশা করি, বিজ্ঞ কমিটি দাখিলকৃত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে আমাদের প্রার্থীকে অব্যাহতি দেবেন।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও কক্সবাজার-০৩ আসন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আল আমীন মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার নয়, বরং নীতির রাজনীতি করে। আমাদের প্রার্থী শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। মাঠে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে দিশেহারা হয়ে প্রতিপক্ষ আজ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।”

কক্সবাজার শহর জামায়াতের সেক্রেটারি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির শহর শাখার পরিচালক রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল বলেন, “এই মিথ্যা অভিযোগ শুধু একজন প্রার্থীকে হয়রানি করার অপচেষ্টা নয়, বরং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র। জামায়াত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এর মোকাবিলা করছি।”

বক্তারা আরও বলেন, “আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় আমাদের প্রার্থীরা তফসিল ঘোষণার পরপরই নিজ দায়িত্বে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করেছেন। অথচ যারা অভিযোগ করছে, তারাই আচরণবিধি ভঙ্গের নজির রেখে চলেছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আকতার উদ্দিন হেলালী, সিনিয়র আইনজীবী জাফরুল্লাহ ইসলামাবাদী, এডভোকেট মুহাম্মদ নেজামুল হক, এডভোকেট আমিনুল হাসান, এডভোকেট সরওয়ার আলম মুন্নাসহ আসন পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্য ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো প্রকার গুজব বা উসকানিতে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিন।