নাইক্ষ্যংছড়িতে আইইডি-মাইন শনাক্ত, কক্সবাজারে দাহ্য রাসায়নিক আটক

- আপডেট সময় ০৭:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪৭৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ -মায়ানমার সীমান্তে বিদ্যমান বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায়
আইইডি ও অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন স্থাপনের ঝুঁকি এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ চোরাচালান পরিলক্ষিত হচ্ছে যা আমাদের দেশে একটি জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি এই সীমান্তে মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য পণ্যের চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিজিবি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা, আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তে যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধ, দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ আনুমানিক দুপুর ০২:১৫ ঘটিকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) এর অধীনস্থ টারগুপাড়া বিওপির টহলদল সীমান্ত সড়ক সংলগ্ন শূন্য লাইনের কাছাকাছি ছায়াপাড়া (সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪ এর মধ্যবর্তী) এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে বিজিবি সদস্যরা ৪-৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চলাচল করতে দেখতে পায় এবং তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত কয়েকটি ব্যাগ ফেলে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে নিম্নোক্ত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়ঃ
ক। ০৫ (পাঁচ)টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন
খ। ০৫ (পাঁচ)টি সম্ভাব্য ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED)
গ। ০১ (এক)টি মেটাল ডিটেক্টর
ঘ। ০১ (এক)টি সোলার প্যানেল
ঙ। শুকনা খাদ্যসামগ্রী
চ। মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক
ছ। সিভিল পোশাক
উদ্ধারকৃত সম্ভাব্য মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অননুমোদিত প্রবেশ প্রতিরোধে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম মোতায়েনের জন্য বিজিবি সদর দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে আনুমানিক ১২০০ ঘটিকায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস হতে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমবাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় নিম্নোক্ত ক্ষতিকারক দাহ্য রাসায়নিক পদার্থসমূহ আটক করা হয়ঃ
ক। দাহ্য পদার্থ (পাউডার) – ০৩ কেজি
খ। মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড) – ০৩ কেজি
গ। নাইলন কাপড় – ০৩ রোল
ঘ। দাহ্য রাসায়নিক তরল – ০৩ লিটার
উদ্ধারকৃত দাহ্য পদার্থসমূহ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে প্রেরণ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।














