ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

- আপডেট সময় ০৬:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / ২৮১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়। বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।
তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইউএইর প্রচলিত আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের বিভিন্ন ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা ইন্টারপোলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়।
এ ঘটনাকে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।















