কক্সবাজার ০২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জন্মদাতারা ফেলে গেছে, বুকে টানতে চান অর্ধশত মানুষ

শহিদুল ইসলাম শহিদ
  • আপডেট সময় ০৮:১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / ২৩৭ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

জন্মের পরপরই কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ফেলে রেখে উধাও হয়ে যান বাবা-মা। অথচ সেই শিশুকন্যাটিকেই এখন নিজের সন্তান হিসেবে বুকে টেনে নিতে চান অসংখ্য মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে নজিরবিহীন মানবিক সাড়া। একের পর এক মন্তব্যে ফুটে উঠেছে শিশুটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা, মমতা ও দায়িত্ববোধ।

 

গত ২ জুন জন্মের পর অসুস্থ অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় নবজাতক কন্যাশিশুটিকে। পরে তার বাবা-মা হাসপাতাল থেকে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশুটির বাবার নাম সাইফুল এবং মায়ের নাম জুবাইদা। তাদের বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শ্রবণী দত্ত পূর্বা জানান, শিশুটি সুস্থতার পথে রয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করছে।

 

এদিকে শিশুটিকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ২৪ এর সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম শহীদ’র করা ভিডিও প্রতিবেদনে হাজারো মানুষের প্রতিক্রিয়া ও শতাধিক শেয়ার দেখা গেছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নামের একজন মন্তব্যে লিখেছেন, “আমাকে দিন, কোনো শর্তবিহীন নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করবো।”

মোহিদুল হোসাইন মুয়াজ লিখেছেন, “আমি মেয়েটি নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছি। আপনারা সুযোগ করে দিলে আমি নিব।”

ইমাম হোসেন ইমন মন্তব্য করেছেন, “আমাকে দিয়ে দিন, আমার একটি কন্যা সন্তান আছে। এটা ও তার সঙ্গে বড় হবে আমার পরিচয়ে।”

খালেদা ওয়াজেদ লিপি লিখেছেন, “আমি মেয়েটাকে নিব। নিজের সন্তানের মতো আদর-যত্ন করে মানুষ করবো।”

আরেকজন মন্তব্যকারী সি বার্ড লিখেছেন, “আমি দায়িত্ব নিতে চাই। এ বিষয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি?”

মোহাম্মদ এহছান করিমের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল, “আমি নেব।”

এছাড়া আরও অনেকেই শিশুটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় জানতে চেয়েছেন।

 

তবে দত্তক গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকের সন্ধান, আইনগত যাচাই-বাছাই এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

সমাজসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, জন্মের পর একটি শিশুকে পরিত্যাগ করার ঘটনা যেমন বেদনাদায়ক, তেমনি এই শিশুটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সমাজের মানবিক মুখটিও তুলে ধরেছে।

হাসপাতালের ছোট্ট একটি শয্যায় শুয়ে থাকা শিশুকন্যাটি হয়তো এখনো জানে না তার পরিচয় কী। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া বলছে, তাকে নিজের পরিচয়ে বড় করে তুলতে প্রস্তুত মানুষের অভাব নেই। জন্মদাতারা তাকে ফেলে গেলেও, সমাজের অসংখ্য মানুষ তাকে আপন করে নিতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জন্মদাতারা ফেলে গেছে, বুকে টানতে চান অর্ধশত মানুষ

আপডেট সময় ০৮:১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

জন্মের পরপরই কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ফেলে রেখে উধাও হয়ে যান বাবা-মা। অথচ সেই শিশুকন্যাটিকেই এখন নিজের সন্তান হিসেবে বুকে টেনে নিতে চান অসংখ্য মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে নজিরবিহীন মানবিক সাড়া। একের পর এক মন্তব্যে ফুটে উঠেছে শিশুটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা, মমতা ও দায়িত্ববোধ।

 

গত ২ জুন জন্মের পর অসুস্থ অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় নবজাতক কন্যাশিশুটিকে। পরে তার বাবা-মা হাসপাতাল থেকে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশুটির বাবার নাম সাইফুল এবং মায়ের নাম জুবাইদা। তাদের বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শ্রবণী দত্ত পূর্বা জানান, শিশুটি সুস্থতার পথে রয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করছে।

 

এদিকে শিশুটিকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ২৪ এর সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম শহীদ’র করা ভিডিও প্রতিবেদনে হাজারো মানুষের প্রতিক্রিয়া ও শতাধিক শেয়ার দেখা গেছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নামের একজন মন্তব্যে লিখেছেন, “আমাকে দিন, কোনো শর্তবিহীন নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করবো।”

মোহিদুল হোসাইন মুয়াজ লিখেছেন, “আমি মেয়েটি নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছি। আপনারা সুযোগ করে দিলে আমি নিব।”

ইমাম হোসেন ইমন মন্তব্য করেছেন, “আমাকে দিয়ে দিন, আমার একটি কন্যা সন্তান আছে। এটা ও তার সঙ্গে বড় হবে আমার পরিচয়ে।”

খালেদা ওয়াজেদ লিপি লিখেছেন, “আমি মেয়েটাকে নিব। নিজের সন্তানের মতো আদর-যত্ন করে মানুষ করবো।”

আরেকজন মন্তব্যকারী সি বার্ড লিখেছেন, “আমি দায়িত্ব নিতে চাই। এ বিষয়ে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি?”

মোহাম্মদ এহছান করিমের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল, “আমি নেব।”

এছাড়া আরও অনেকেই শিশুটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় জানতে চেয়েছেন।

 

তবে দত্তক গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকের সন্ধান, আইনগত যাচাই-বাছাই এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

সমাজসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, জন্মের পর একটি শিশুকে পরিত্যাগ করার ঘটনা যেমন বেদনাদায়ক, তেমনি এই শিশুটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ সমাজের মানবিক মুখটিও তুলে ধরেছে।

হাসপাতালের ছোট্ট একটি শয্যায় শুয়ে থাকা শিশুকন্যাটি হয়তো এখনো জানে না তার পরিচয় কী। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া বলছে, তাকে নিজের পরিচয়ে বড় করে তুলতে প্রস্তুত মানুষের অভাব নেই। জন্মদাতারা তাকে ফেলে গেলেও, সমাজের অসংখ্য মানুষ তাকে আপন করে নিতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।