কক্সবাজার ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে ইয়াবা ডন বদি’র সহযোগী খাইরুল আলম

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৪:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০৬ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

টানা দুই দশক ধরে ক্ষমতার দাপট বজায় রাখা উখিয়ার বিতর্কিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন ও নানা অপকর্মের অভিযোগে সম্প্রতি আদালতে মামলা হয়েছে। কিন্তু মামলা ও গুরুতর সব অভিযোগ সত্ত্বেও এবার তাকে প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী র‍্যালিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উখিয়ার সাধারণ জনগণ এবং বিএনপি-আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়দের মতে, নিজের করা অসংখ্য অপকর্ম ও অপরাধ ঢাকতেই সাবেক এমপি বদির এই তথাকথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এখন মাদকবিরোধী নাটকের আশ্রয় নিয়েছেন।

আদালতে মামলা ও নির্যাতনের রোমহর্ষক বিবরণ

গত ৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) উখিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খাইরুল আলমকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন রত্মাপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলম।

ভোট ডাকাতি ও হামলা: ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালুকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আলমের ওপর হামলা চালানো হয়। সাবেক এমপি বদির স্ত্রী শাহীন আক্তারকে বিজয়ী করতে ভোট ডাকাতির উদ্দেশ্যে খাইরুল আলমের নেতৃত্বে তাকে হেনস্তা করা হয়।

পাহাড়ে তুলে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন: পরবর্তীতে আলমকে জোরপূর্বক থিমছড়ি পাহাড়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। তৎকালীন ক্ষমতার দাপটে এতদিন মামলা করতে না পারলেও বর্তমানে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উখিয়া থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বহুরূপী রাজনীতি ও ক্ষমতার ছায়াতল

খাইরুল আলম চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় বিএনপির মাধ্যমে। তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে ২০০৫ সালের পর তিনি দল ত্যাগ করে সরকারি দলের ছায়াতলে ভেড়েন। এরপর ইয়াবা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি ও তার শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ বনে যান।

নারী পাচার, দখলদারি ও ঘুষের সিন্ডিকেট

স্থানীয় সচেতন মহল ও সরেজমিন অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:

অনৈতিক আসর ও নারী সরবরাহ: কক্সবাজারের বিভিন্ন রিসোর্ট ও বীচ হোটেলে মদের আসর বসানো এবং স্থানীয় উঠতি বয়সী নারীদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কিশোরীদের এনে সাবেক এমপির কাছে সাপ্লাই দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্কুল দখল ও ঘুষ বাণিজ্য: ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে ভালুকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ ছিনিয়ে নেওয়া এবং ১২ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জমি দখল ও অন্যান্য অপরাধ: রাবারড্যাম এলাকার কালাচান বড়ুয়া গং-এর জমি দখল, ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে পারিবারিক বিচার ঝুলিয়ে রেখে এক গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রাখা এবং পূর্বরত্না বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ‘ফোর মার্ডার’ ঘটনাতেও তার ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।

ফুঁসে উঠেছেন ত্যাগী নেতারা ও উখিয়ার জনগণ

২০০৬ সালের ১/১১-এর সময়েও চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগে যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছিলেন এই খাইরু। ৫ আগস্টের পর সাবেক এমপি বদি আটক হলেও এতদিন ছদ্মবেশে থাকা খাইরুল আলম এবার নিজেকে বাঁচাতে প্রকাশ্যে ‘মাদকবিরোধী’ সাজছেন।

এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে পুরো উখিয়াজুড়ে। উখিয়ার সাধারণ জনগণ এবং উভয় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বহুরূপী এই খাইরুলের স্থান কোনো সামাজিক বা মাদকবিরোধী মঞ্চে হতে পারে না। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে তার সমস্ত অবৈধ সম্পদ ও অপকর্মের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উখিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালিতে ইয়াবা ডন বদি’র সহযোগী খাইরুল আলম

আপডেট সময় ০৪:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

টানা দুই দশক ধরে ক্ষমতার দাপট বজায় রাখা উখিয়ার বিতর্কিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন ও নানা অপকর্মের অভিযোগে সম্প্রতি আদালতে মামলা হয়েছে। কিন্তু মামলা ও গুরুতর সব অভিযোগ সত্ত্বেও এবার তাকে প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী র‍্যালিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উখিয়ার সাধারণ জনগণ এবং বিএনপি-আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়দের মতে, নিজের করা অসংখ্য অপকর্ম ও অপরাধ ঢাকতেই সাবেক এমপি বদির এই তথাকথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এখন মাদকবিরোধী নাটকের আশ্রয় নিয়েছেন।

আদালতে মামলা ও নির্যাতনের রোমহর্ষক বিবরণ

গত ৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) উখিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খাইরুল আলমকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন রত্মাপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলম।

ভোট ডাকাতি ও হামলা: ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালুকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আলমের ওপর হামলা চালানো হয়। সাবেক এমপি বদির স্ত্রী শাহীন আক্তারকে বিজয়ী করতে ভোট ডাকাতির উদ্দেশ্যে খাইরুল আলমের নেতৃত্বে তাকে হেনস্তা করা হয়।

পাহাড়ে তুলে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন: পরবর্তীতে আলমকে জোরপূর্বক থিমছড়ি পাহাড়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। তৎকালীন ক্ষমতার দাপটে এতদিন মামলা করতে না পারলেও বর্তমানে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উখিয়া থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বহুরূপী রাজনীতি ও ক্ষমতার ছায়াতল

খাইরুল আলম চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় বিএনপির মাধ্যমে। তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে ২০০৫ সালের পর তিনি দল ত্যাগ করে সরকারি দলের ছায়াতলে ভেড়েন। এরপর ইয়াবা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি ও তার শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ বনে যান।

নারী পাচার, দখলদারি ও ঘুষের সিন্ডিকেট

স্থানীয় সচেতন মহল ও সরেজমিন অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:

অনৈতিক আসর ও নারী সরবরাহ: কক্সবাজারের বিভিন্ন রিসোর্ট ও বীচ হোটেলে মদের আসর বসানো এবং স্থানীয় উঠতি বয়সী নারীদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কিশোরীদের এনে সাবেক এমপির কাছে সাপ্লাই দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্কুল দখল ও ঘুষ বাণিজ্য: ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে ভালুকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ ছিনিয়ে নেওয়া এবং ১২ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জমি দখল ও অন্যান্য অপরাধ: রাবারড্যাম এলাকার কালাচান বড়ুয়া গং-এর জমি দখল, ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে পারিবারিক বিচার ঝুলিয়ে রেখে এক গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রাখা এবং পূর্বরত্না বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ‘ফোর মার্ডার’ ঘটনাতেও তার ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।

ফুঁসে উঠেছেন ত্যাগী নেতারা ও উখিয়ার জনগণ

২০০৬ সালের ১/১১-এর সময়েও চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগে যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছিলেন এই খাইরু। ৫ আগস্টের পর সাবেক এমপি বদি আটক হলেও এতদিন ছদ্মবেশে থাকা খাইরুল আলম এবার নিজেকে বাঁচাতে প্রকাশ্যে ‘মাদকবিরোধী’ সাজছেন।

এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে পুরো উখিয়াজুড়ে। উখিয়ার সাধারণ জনগণ এবং উভয় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বহুরূপী এই খাইরুলের স্থান কোনো সামাজিক বা মাদকবিরোধী মঞ্চে হতে পারে না। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে তার সমস্ত অবৈধ সম্পদ ও অপকর্মের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।