চকরিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

- আপডেট সময় ০৫:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১১১ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভাড়া বাসার বাথরুম থেকে সাদিয়া জান্নাত (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মোহাম্মদ সোহেল পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার নিরিবিলি আবাসিক এলাকায় চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাদিয়া জান্নাত নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পূর্বইত্যাখালী গ্রামের মোহাম্মদ সোহেলের স্ত্রী। তিনি একই এলাকার মৃত নুরুল হোসেনের পুত্রবধূ। সাদিয়া ও সোহেল দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওই দম্পতি নিরিবিলি আবাসিক এলাকার ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এর আগেই পরিবারের লোকজন ঝুলন্ত অবস্থা থেকে সাদিয়ার মরদেহ নিচে নামিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। সাদিয়ার চাচা নাজমুল হাসানের দাবি, সাড়ে পাঁচ ফুটের একটি বাথরুম থেকে সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তার নিজের উচ্চতাও প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট। যে অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া গেছে, সেটি আত্মহত্যার দৃশ্য বলে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের মা জানাত আরা অভিযোগ করেন, তার জামাতা বেকার থাকায় সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার জন্য সাদিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সাদিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। তার অভিযোগ, টাকা না পাওয়ার ক্ষোভে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে সাদিয়াকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মোহাম্মদ সোহেল পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
















