অবশেষে খোঁজ মিলল বাইকের সেই তরুণীর

- আপডেট সময় ১১:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মাঝরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে ওই তরুণীর সন্ধান মিলেছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে ওই তরুণী জানান, তিনি বর্তমানে ভালো আছেন এবং জীবিত আছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে ফোন রেখে দেন। শুরুতে অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
তরুণীর একাধিক স্বজনের সঙ্গেও কথা বলেছে সংবাদমাধ্যমটি। তার বড় বোনের স্বামীর দাবি, ‘রিয়া’ (ছদ্মনাম) কখনো ড্রিংকস করেন না। ঘটনার দিন তার বড় বোন ও দুলাভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হলে রাগ করে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে এক তরুণের সঙ্গে ড্রিংকস করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে ধারণা ওই স্বজনের। এরপর ওই তরুণেরা তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর সড়কে তিন আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল চলতে দেখা যায়।
ওমরাহ শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করেন। তার দাবি, চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে ঝুলছিল। এ দৃশ্য দেখে তিনি তরুণীটি জীবিত নাকি অচেতন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পরে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। এ ঘটনায় দুটি মোবাইল নম্বরও পাওয়া যায়। এর একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি একটি শোরুম মালিকের বলে জানা গেলেও তিনি দাবি করেছেন, তার শোরুম থেকে মোটরসাইকেলটি বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর ওই ঘটনায় এসেছে, তা তিনি জানেন না। অন্য নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
সূত্রের দাবি, মোটরসাইকেলের মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুরে হলেও চালকের আসনে থাকা যুবকের বাড়ি রাজেন্দ্রপুর এলাকায়। তার নামের শেষাংশ ‘আলম’। তিনি নিজেকে ওই তরুণীর স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
আলম তার স্বামী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তরুণী বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’
এদিকে, ওই তরুণীর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল বলেও জানা গেছে। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এবং ঘটনায় পাওয়া অন্যান্য তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তরুণীর বড় বোনের স্বামীর দাবি, বারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আলম ও তার এক বন্ধু তাকে টঙ্গীতে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ওই অবস্থায় তাকে টঙ্গীতে না নিয়ে মিরপুরে ফিরে যান তারা। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তরুণীকে রেখে আলম তার বোনকে ফোন করেন বলেও দাবি করেন ওই স্বজন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হলেও প্রকৃত ঘটনা এখনো স্পষ্ট নয়। তরুণীর বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা এবং পুলিশের তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
















