কক্সবাজার ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিন্নাহ স্মরণ, উর্দু বিভাগ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

এম এ বাপ্পি
  • আপডেট সময় ০৩:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্দু ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের কার্যক্রম, ভাষা আন্দোলন, জিন্নাহর ভূমিকা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে উর্দু ভাষার পাঠদান অব্যাহত রয়েছে এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরও উর্দু বিভাগ বন্ধ হয়নি। এ বিষয়টি সামনে রেখে একটি পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের সময়ও কেন উর্দু ভাষার একাডেমিক চর্চা বন্ধ করা হয়নি।

 

পোস্টটিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ও ডাকসুর পক্ষ থেকে জিন্নাহকে স্মরণ করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

 

লেখাটিতে জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগ এবং ভারত, পাকিস্তান ও পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও বিভিন্ন মত তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের বক্তব্যে দাবি করা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলিমদের নিরাপত্তা ও স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জিন্নাহ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

 

তবে পোস্টে উত্থাপিত ভারতীয় শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ-মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য মূলত লেখকের অনুমান ও রাজনৈতিক অভিমত; এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

 

পোস্টের শেষাংশে লেখক বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। তার দাবি, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হওয়ায় দেশের মানুষের স্বার্থে যেসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অর্থনৈতিক ও জাতীয়ভাবে উপকারী হবে, তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রাখা উচিত।

 

লেখকের ভাষ্য, ভারত বা পাকিস্তান—কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কই আবেগের ভিত্তিতে নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করা উচিত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জিন্নাহ স্মরণ, উর্দু বিভাগ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্দু ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের কার্যক্রম, ভাষা আন্দোলন, জিন্নাহর ভূমিকা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে উর্দু ভাষার পাঠদান অব্যাহত রয়েছে এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরও উর্দু বিভাগ বন্ধ হয়নি। এ বিষয়টি সামনে রেখে একটি পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের সময়ও কেন উর্দু ভাষার একাডেমিক চর্চা বন্ধ করা হয়নি।

 

পোস্টটিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ও ডাকসুর পক্ষ থেকে জিন্নাহকে স্মরণ করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

 

লেখাটিতে জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগ এবং ভারত, পাকিস্তান ও পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও বিভিন্ন মত তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের বক্তব্যে দাবি করা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলিমদের নিরাপত্তা ও স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জিন্নাহ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

 

তবে পোস্টে উত্থাপিত ভারতীয় শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ-মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য মূলত লেখকের অনুমান ও রাজনৈতিক অভিমত; এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

 

পোস্টের শেষাংশে লেখক বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। তার দাবি, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হওয়ায় দেশের মানুষের স্বার্থে যেসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অর্থনৈতিক ও জাতীয়ভাবে উপকারী হবে, তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রাখা উচিত।

 

লেখকের ভাষ্য, ভারত বা পাকিস্তান—কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কই আবেগের ভিত্তিতে নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি ও জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করা উচিত।