গণভোট ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়, সংবিধান অনুযায়ী ভোট ২০২৯ সালেই: হামিদুর রহমান আযাদ

- আপডেট সময় ০৮:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৬২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০২৯ সালের আগে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়— যদি না গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টন মোড়ে আট দলীয় জোটের সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে— জাতীয় সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। একটি সংসদ নির্বাচনের পর পরবর্তী নির্বাচন সেই মেয়াদের শেষের ছয় মাসের মধ্যেই হতে পারে। কাজেই ২০২৪ সালের তথাকথিত নির্বাচনের পর ২০২৬ সালে নতুন নির্বাচন আয়োজনের কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই। সংবিধান অনুসারে পরবর্তী নির্বাচন হবে ২০২৯ সালে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে বলেন, সংবিধানে গণভোটের ধারা নেই। তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই— আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সেই ধারা বাতিল করেছিল। আজ যারা গণভোটের বিরোধিতা করছেন, তারা আসলে শেখ হাসিনার কথাই পুনরাবৃত্তি করছেন। কিন্তু জনগণের মতামত ছাড়া কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন বা নতুন নির্বাচনের বৈধতা হয় না।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি:
জামায়াত নেতা বলেন, “বাংলাদেশকে নতুন পথে নিতে হলে প্রথমেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং জাতীয় পুনর্গঠনের রূপরেখা। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আগে জনগণের সম্মতি নিয়ে গণভোট আয়োজন করতে হবে। জুলাই সনদ ছাড়া যেমন রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়, তেমনি সুষ্ঠু নির্বাচনও সম্ভব নয়।”
বিএনপিকে উদ্দেশ করে বক্তব্য:
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আপনারা কি আবারও দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান? জনগণ আজ জেগে উঠেছে। আর কেউ স্বৈরশাসনের ফাঁদে পড়বে না। আসুন, সবাই মিলে দাবি তুলি— সরকার এখনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিক, আর জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিক।”
আট দলীয় জোটের এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হকসহ আট দলের দলের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশ শেষে জোটের নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেন— প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে বসে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের আয়োজনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হবে।
















