কুতুপালং বাজার সমবায় সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

- আপডেট সময় ১০:৩৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / ৪০০ বার পড়া হয়েছে
উখিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বহুল আলোচিত কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ত্রি–বার্ষিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুতুপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিরতিহীন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৪২৭ ভোটারের মধ্যে ৪২১ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
এই ফলাফলে সভাপতি পদে চেয়ার প্রতীক নিয়ে ডা. জহির আহমদ ২৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সভাপতি ছাতা প্রতীকের জানে আলম জানু পান ১৪৯ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের মো. রোবেল সওদাগর ২৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই পদের প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের মো. আলী পান ১৩৮ ভোট।
অন্যান্য পদে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন—সহ-সভাপতি পদে কলসি প্রতীকের মোহাম্মদ তারেক, কোষাধ্যক্ষ পদে হাঁস প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন শফিউল আলম (মোরগ), রফিক উদ্দিন (বৈদ্যুতিক পাখা), মোহাম্মদ বাবুল মিয়া (তালা), মোহাম্মদ ইসমাঈল (টিউবওয়েল) ও জিয়াবুল হক (ফুটবল)। মোট ৯ পদে ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পুরো ভোটগ্রহণ কার্যক্রম তদারকি করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উখিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবুল কালাম।
ভোট গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে প্রবেশের আগে ভোটারদের মোবাইল ফোন জমা দিতে হয়েছে।অধিকাংশ ভোটারই এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। একজন ভোটার জানান, “এক প্রার্থী নাকি ছবি তুলে ভোট নিশ্চিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু মোবাইল জমা দেওয়ায় আমরা কোনো চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছি।” দিনভর ভোটকেন্দ্রে ছিল প্রচারণা, ভিড়, উত্তাপ ও উৎসবের পরিবেশ।
ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হলে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা একে অপরকে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা জানান—যা নির্বাচনী সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, এটি একটি অভূতপূর্ব নির্বাচন হয়েছে। ভোটাররা সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে নির্বাচিত করেছেন।” এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, “কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট।”
নির্বাচন শেষে ব্যবসায়ী সমাজ নতুন নেতৃত্বের প্রতি বাজার উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার, স্বচ্ছ সমবায় ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়ীদের অধিকার সুরক্ষার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে, কুতুপালং বাজারের এই নির্বাচন সক্রিয় অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার দিক থেকে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।














