কুতুবদিয়ায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকের সহকারী প্রিজাইডিং দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা–সমালোচনার ঝড়

- আপডেট সময় ১১:১৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৩৪৪ বার পড়া হয়েছে
কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুতুবদিয়ায় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সমালোচনাকারীরা জানান, কবি নজরুল ইসলাম একাডেমি নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একজন শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নন-এমপিওভুক্ত একাধিক বেসরকারি শিক্ষকের নামও নির্বাচনী দায়িত্বের তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের দাবি, নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় ও সংবেদনশীল দায়িত্ব হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে না রেখে বেসরকারি ও নন-এমপিও শিক্ষক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে, যা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের মতে, এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি শিক্ষক বলেন,“আমরা সরকারি কর্মচারী হয়েও নির্বাচনী দায়িত্বে নেই, অথচ কিন্ডার গার্টেন ও নন-এমপিও শিক্ষকদের দিয়ে সহকারী প্রিজাইডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক এবং প্রশ্নবিদ্ধ।”
একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই মূলত নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ। বেসরকারি শিক্ষকদের দিয়ে এই দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা পরিষ্কার নয়।”
স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পরিবেশকে অযথা বিতর্কিত করে তুলছে। তাঁদের মতে, ভোটের আগমুহূর্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি কিন্ডার গার্টেন বা নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক।
সব মিলিয়ে কুতুবদিয়ায় নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে এই দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও ভোটাররা।














