বিতর্কিত সন্ত্রাসী এলাকা জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা রোহিঙ্গা হাশেমকে মাদ্রাসা থেকে অপসারণের দাবি স্থানীয়দের

- আপডেট সময় ১১:৪৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
- / ৭৭০ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত ও দীর্ঘদিন ধরে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আবারও বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন। দিনব্যাপী চালানো এ অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়। অভিযানে অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং কিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন।
কোথায় এ জঙ্গল সলিমপুর:
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুর এলাকা। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা এই খাসজমির বসতিতে বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এলাকাটি কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ এবং রিদোয়ান গ্রুপ উল্লেখযোগ্য।

রোহিঙ্গা হাসেমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ:
সূত্রের দাবি, এসব গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ভয়ংকর হিসেবে পরিচিত ইয়াসিন গ্রুপের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বর্তমানে কক্সবাজারে বসবাসরত হাশেম মাহমুদের।
হাশেম মাহমুদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যমতে তার স্থায়ী ঠিকানা জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়। নব্বইয়ের দশকে মানবিক কারণে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এ রোহিঙ্গা পরে পরিকল্পিতভাবে কক্সবাজারে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোহিঙ্গা পরিচয়কে ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে তিনি ‘দারুল আমান ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজারের দারুল আমান মাদ্রাসায় প্রথমে ডোনার হিসেবে যুক্ত হন। পরে ট্রাস্টের নিয়োগে পর্যায়ক্রমে সহকারী শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষক পরে সুপার পদে দায়িত্ব পান।
এই সুযোগে শুরু থেকেই তিনি বিভিন্ন রোহিঙ্গা কিশোরকে এনে মাদ্রাসায় রাখার মাধ্যমে একটি আলাদা কমিউনিটি গড়ে তোলেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসা দখলের চেষ্টার অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২ মার্চ গভীর রাতে মাইকিং করে ভুল বার্তা ছড়িয়ে লোকজন জড়ো করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন এ হাশেম। অভিযোগ রয়েছে, কোমলমতি ছাত্রদের মধ্যরাতে রাস্তায় নামিয়ে এনে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মাদ্রাসাটি পুরোপুরি দখলের চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও তার কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি হাশেম। হিসাব না দেওয়ার অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই অর্থের প্রভাব খাটিয়ে বহিরাগতদের ভাড়া করে মব সৃষ্টি করা হয় এবং একটি শান্তিপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দখলের চেষ্টা চালানো হয়।
এ ঘটনায় হাশেমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দোসরদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দখল করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আসাদ, হোসেন আলী, নেজাম, মানিক মাস্টারসহ আরও কয়েকজন।
এলাকাবাসীর দাবি:
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা হাশেম মাহমুদকে দারুল আমান মাদ্রাসা থেকে অপসারণ করে প্রতিষ্ঠাতাদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
একইসঙ্গে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।




















