রামু-পাঞ্জেগানা টমটম ভাড়া দ্বিগুণ, যাত্রীদের নাভিশ্বাস

- আপডেট সময় ১১:০০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / ৩৮৮ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের রামু উপজেলার বহুল ব্যবহৃত রামু-পাঞ্জেগানা সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (টমটম)-এর ভাড়া হঠাৎ করেই ১০ টাকা থেকে ২০ টাকায় উন্নীত হওয়ায় চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ। আকস্মিক এই ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, বাকবিতণ্ডা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই রুটে বর্তমানে কেউ কেউ আগের নির্ধারিত ১০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করলেও, অধিকাংশ চালক ২০ টাকা ভাড়া আদায় করছেন। ফলে যাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি, অসন্তোষ এবং অনিশ্চয়তা।
ভাড়া বৃদ্ধির নেপথ্যে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন টমটম গ্যারেজে গিয়ে চালকদের ওপর ২০ টাকা ভাড়া আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যারেজ মালিকরা দৈনিক চার্জ ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। ফলে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতেই ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের মতে, যেসব চালক নিজস্ব বাড়িতে অটোরিকশা চার্জ দেন, তারা এখনো আগের ১০ টাকা ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করছেন। এতে ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সংশয় আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সাধারণ যাত্রীদের আশঙ্কা, টমটমের ভাড়া বৃদ্ধি যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অব্যাহত থাকে, তাহলে পর্যায়ক্রমে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য গণপরিবহনের ভাড়াও বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।
স্থানীয়দের মতে, রামু-পাঞ্জেগানা সড়কটি বর্তমানে ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং এই পথ পাড়ি দিতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। তাই এত স্বল্প দূরত্বে এক লাফে ১০০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সীমিত আকারে ভাড়া সমন্বয় করা যেতে পারে, কিন্তু দ্বিগুণ ভাড়া আরোপ জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে তারা মনে করেন।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।














