গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি স্পষ্ট করার দাবি ড. হামিদুর রহমান আযাদের

- আপডেট সময় ০৩:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণের মতামত নেওয়ার পর সংবিধানের একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন করে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের মূল বিষয় হলো জনগণের সার্বভৌম রায়ের মর্যাদা রক্ষা করা। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের প্রশ্নে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তিনি বলেন, এখন নতুন করে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয় গণভোটে আনার আগে সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে—আগের গণভোটের রায় কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। আগের গণরায় কার্যকর ও বহাল থাকলে একই বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন, আর যদি তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়, তাহলে তার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জরুরি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণভোট কোনো রাজনৈতিক দলের পছন্দ অনুযায়ী বারবার জনগণের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা নয়। এটি জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি বিশেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাই জনগণ একবার কোনো বিষয়ে রায় দিলে সেই রায়ের মর্যাদা, কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের বিষয় আগে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তিনি সরকারের কাছে তিনটি প্রশ্নের জবাব দাবি করেন—আগের গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক অবস্থান কী; সেই গণরায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে নতুন করে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন কেন তৈরি হলো; এবং নতুন গণভোটের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি কী।
ড. হামিদ আযাদ বলেন, গণতন্ত্র শুধু ভোট নেওয়ার নাম নয়; জনগণ ভোট দেওয়ার পর রাষ্ট্র সেই রায়কে কতটা সম্মান করে, সেটিও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। আগের গণরায়ের সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট না করে নতুন গণভোটের প্রশ্ন তোলা হলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হবে।
তিনি বলেন, “আগে জনগণের রায়—তারপর তার সাংবিধানিক মর্যাদা ও বাস্তবায়ন।” জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ, বর্জন বা পুনর্বিবেচনার বিষয় হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
























