কক্সবাজার ০৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতসহ ৮ দলের সমাবেশে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘির ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৭:০৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আন্দোলনরত ৮ দলের পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় শুরু হওয়া এ মহাসমাবেশে জনতার ঢল নামে সকাল থেকেই। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন ৮ দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। সেই বিজয় হবে কুরআনের আলোকে। চট্টগ্রাম থেকেই ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কুরআনের বাংলাদেশ।”

তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসকরা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে ব্যবসা শুরু করেছে। রডের বদলে বাঁশ দিয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ, শাপলা চত্বরে নিরীহ আলেমদের হত্যা, গণমানুষের ভোটাধিকার হরণ—সবই ছিল একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের দৃষ্টান্ত। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনও ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকেই একটি গোষ্ঠী জনগণের ওপর চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি শুরু করেছে। প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করছে। ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ইসলামী দলগুলোর ঐক্য আমাদের জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্টের মতো আন্দোলন গড়ে উঠবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশ গরিব-দুঃখী মানুষের রক্তে গড়া। বনেদিদের বাংলাদেশ আর থাকবে না। আমরা ক্ষমতার অংশীদার হতে আসিনি—বরং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এসেছি। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার কবর রচনা করে আল্লাহর আইনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দলীয় প্রতীকে ‘হ্যাঁ ভোট’ গুরত্বপূর্ণ। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
 
বিশেষ অতিথি হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “ব্রিটিশ শাসন কিংবা ১৯৭১ সালের পরও বৈষম্য দূর হয়নি। ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ছাড়া চিরস্থায়ী মুক্তি নেই। মানুষ আগামীতে জালেমদের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলনে নামবে।”

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রাম ইসলামের ঘাঁটি। ৮ দলের শক্তি ক্ষমতায় গেলে এই দেশ জনগণই শাসন করবে। বিদেশিরা একদিন বাংলাদেশে পড়তে আসবে—এমন উন্নত দেশ আমরা গড়তে চাই।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ ৮ দলের শীর্ষ নেতারা।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের আমীর, সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। মিছিলে মিছিলে লালদীঘি প্রাঙ্গণ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

বক্তারা একক কণ্ঠে ঘোষণা দেন— গণভোট আয়োজন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনসহ ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াতসহ ৮ দলের সমাবেশে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘির ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত

আপডেট সময় ০৭:০৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আন্দোলনরত ৮ দলের পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় শুরু হওয়া এ মহাসমাবেশে জনতার ঢল নামে সকাল থেকেই। নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন ৮ দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। সেই বিজয় হবে কুরআনের আলোকে। চট্টগ্রাম থেকেই ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কুরআনের বাংলাদেশ।”

তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন স্বৈরশাসকরা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে ব্যবসা শুরু করেছে। রডের বদলে বাঁশ দিয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ, শাপলা চত্বরে নিরীহ আলেমদের হত্যা, গণমানুষের ভোটাধিকার হরণ—সবই ছিল একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের দৃষ্টান্ত। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনও ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকেই একটি গোষ্ঠী জনগণের ওপর চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি শুরু করেছে। প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করছে। ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ইসলামী দলগুলোর ঐক্য আমাদের জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আবারও ৫ আগস্টের মতো আন্দোলন গড়ে উঠবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশ গরিব-দুঃখী মানুষের রক্তে গড়া। বনেদিদের বাংলাদেশ আর থাকবে না। আমরা ক্ষমতার অংশীদার হতে আসিনি—বরং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এসেছি। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার কবর রচনা করে আল্লাহর আইনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দলীয় প্রতীকে ‘হ্যাঁ ভোট’ গুরত্বপূর্ণ। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।
 
বিশেষ অতিথি হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “ব্রিটিশ শাসন কিংবা ১৯৭১ সালের পরও বৈষম্য দূর হয়নি। ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ছাড়া চিরস্থায়ী মুক্তি নেই। মানুষ আগামীতে জালেমদের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলনে নামবে।”

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রাম ইসলামের ঘাঁটি। ৮ দলের শক্তি ক্ষমতায় গেলে এই দেশ জনগণই শাসন করবে। বিদেশিরা একদিন বাংলাদেশে পড়তে আসবে—এমন উন্নত দেশ আমরা গড়তে চাই।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ ৮ দলের শীর্ষ নেতারা।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের আমীর, সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। মিছিলে মিছিলে লালদীঘি প্রাঙ্গণ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

বক্তারা একক কণ্ঠে ঘোষণা দেন— গণভোট আয়োজন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনসহ ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।