কক্সবাজার ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উৎপাদন মৌসুম শুরুর মুখে এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি ড. হামিদুর রহমান আযাদের

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ১১:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৮৬ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুত থাকা এবং নতুন উৎপাদন মৌসুম শুরু হওয়ার ঠিক সময়ে সরকার কর্তৃক এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্তকে দেশীয় লবণখাতের জন্য ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া–মহেশখালী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

গতকাল (৮ জানুয়ারি) এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি গভীর উদ্বেগ ও তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুত রয়েছে—এ তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও স্পষ্ট। একই সঙ্গে সবেমাত্র নতুন লবণ উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিলে তা দেশীয় লবণখাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই আমদানিকৃত লবণ বাজারে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে দেশীয় লবণের দাম ধস নামবে। এতে লবণচাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই তারা লবণ উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে চলতি মৌসুমের উৎপাদনে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আজ যদি লবণচাষিরা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হন, তাহলে এর ভয়াবহ পরিণতি দেখা দেবে ভবিষ্যতে। উৎপাদন কমে গেলে এক সময় দেশেই লবণের ঘাটতি তৈরি হবে এবং তখন দেশ আবার আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরশীলতার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালীসহ উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার লবণচাষি ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার অস্থিরতার কারণে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। এই সংকটময় সময়ে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তাদের জীবিকার ওপর নতুন করে সর্বনাশ নেমে আসবে।

প্রেস বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট আমদানিকারক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা। এটি দেশের সাধারণ লবণচাষি ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে চরম অবিচার।

তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় লবণ সংগ্রহ ও বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে এবং লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ড. হামিদ আযাদ আরও বলেন, দেশীয় উৎপাদন ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। লবণচাষিদের বাঁচাতে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য লবণ সংকট এড়াতে হলে এই আমদানি সিদ্ধান্ত এখনই প্রত্যাহার করা ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প নেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উৎপাদন মৌসুম শুরুর মুখে এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি ড. হামিদুর রহমান আযাদের

আপডেট সময় ১১:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুত থাকা এবং নতুন উৎপাদন মৌসুম শুরু হওয়ার ঠিক সময়ে সরকার কর্তৃক এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্তকে দেশীয় লবণখাতের জন্য ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া–মহেশখালী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

গতকাল (৮ জানুয়ারি) এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি গভীর উদ্বেগ ও তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুত রয়েছে—এ তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও স্পষ্ট। একই সঙ্গে সবেমাত্র নতুন লবণ উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিলে তা দেশীয় লবণখাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই আমদানিকৃত লবণ বাজারে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে দেশীয় লবণের দাম ধস নামবে। এতে লবণচাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই তারা লবণ উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে চলতি মৌসুমের উৎপাদনে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আজ যদি লবণচাষিরা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হন, তাহলে এর ভয়াবহ পরিণতি দেখা দেবে ভবিষ্যতে। উৎপাদন কমে গেলে এক সময় দেশেই লবণের ঘাটতি তৈরি হবে এবং তখন দেশ আবার আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরশীলতার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালীসহ উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার লবণচাষি ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার অস্থিরতার কারণে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। এই সংকটময় সময়ে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তাদের জীবিকার ওপর নতুন করে সর্বনাশ নেমে আসবে।

প্রেস বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট আমদানিকারক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা। এটি দেশের সাধারণ লবণচাষি ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে চরম অবিচার।

তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় লবণ সংগ্রহ ও বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে এবং লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ড. হামিদ আযাদ আরও বলেন, দেশীয় উৎপাদন ধ্বংস করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। লবণচাষিদের বাঁচাতে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য লবণ সংকট এড়াতে হলে এই আমদানি সিদ্ধান্ত এখনই প্রত্যাহার করা ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প নেই।