জুলাই অভ্যুত্থানে অস্ত্র হাতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী সেই আ’লীগ নেতা সোহেল জাহান চৌধুরী এখন বিএনপির প্রচারণায়

- আপডেট সময় ১২:৪৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঈদগাঁও):
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও ধাওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো অধরা রয়েছেন ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সে সময় তার কাছে থাকা অস্ত্রটি আদৌ উদ্ধার করা হয়েছে কি না, আর কেনই বা এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে পরপর দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া এই নেতা অতীতে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ভোট ডাকাতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অথচ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন তাকে দেখা যাচ্ছে বিএনপির প্রকাশ্য নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকায়।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সোহেল জাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক তৎপরতা। ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের সমর্থনে তিনি নিজ বাসভবনে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে এক বিশাল উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন।
উঠান বৈঠকে সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, ঈদগাঁও এলাকার মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় ও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই তিনি এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলকে বিজয়ী না করা পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।
তার এই প্রকাশ্য সক্রিয়তা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অস্ত্র প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে এখন বিএনপির ব্যানারে নির্বাচনী প্রচারণা—এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোহেল জাহান চৌধুরীর মতো বিতর্কিত ব্যক্তির নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনের পরিবেশ ও নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে আনছে। অনেকেই বলছেন, অতীতের সহিংস ভূমিকার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি ছাড়া তার রাজনৈতিক পুনরাবির্ভাব সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।
এদিকে এলাকাবাসীর একটি বড় অংশ দাবি করছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনায় তার ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। না হলে আইনের শাসন ও রাজনৈতিক নৈতিকতা দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করছেন তারা।




















