কক্সবাজার ০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালী জেটির বেহাল দশা: যেকোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

ফারদিন ফাইজান
  • আপডেট সময় ১০:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৭২ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের মহেশখালীর অন্যতম ব্যস্ত জেটিটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জেটির যাত্রী দাঁড়ানোর অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে, নিচের লোহার রড খুলে বেরিয়ে এসেছে এবং কাঠামোর বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেটির কংক্রিটের স্ল্যাবের উল্লেখযোগ্য অংশ ভেঙে গেছে। ভেতরের লোহার রড বেরিয়ে আছে এবং নিচের অংশ ফাঁপা হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় পানির প্রবল ধাক্কায় পুরো কাঠামো কেঁপে ওঠে, যা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই জেটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। এর মধ্যে কর্মজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি। স্পিডবোট ও নৌকা থেকে ওঠানামার সময় যাত্রীদের পা পিছলে পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “লোহার রড বের হয়ে গেছে, নিচে ফাঁপা হয়ে গেছে। আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে খুব ভয়ে থাকি। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেটির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকা সত্ত্বেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সংস্কার বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ডও টানানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জানান, “এ ধরনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা দ্রুত মেরামত না করলে তা বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। লোড নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেলে হঠাৎ ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অধিক কার্যকর ও মানবিক।”

কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

স্থানীয় জনগণ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই জেটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুর্ঘটনার পর নয়, বরং দুর্ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই দায়িত্বশীলতার পরিচয়—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল। এখনই উদ্যোগ না নিলে একটি ছোট অবহেলা বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মহেশখালী জেটির বেহাল দশা: যেকোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আপডেট সময় ১০:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীর অন্যতম ব্যস্ত জেটিটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জেটির যাত্রী দাঁড়ানোর অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে, নিচের লোহার রড খুলে বেরিয়ে এসেছে এবং কাঠামোর বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেটির কংক্রিটের স্ল্যাবের উল্লেখযোগ্য অংশ ভেঙে গেছে। ভেতরের লোহার রড বেরিয়ে আছে এবং নিচের অংশ ফাঁপা হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় পানির প্রবল ধাক্কায় পুরো কাঠামো কেঁপে ওঠে, যা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই জেটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। এর মধ্যে কর্মজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি। স্পিডবোট ও নৌকা থেকে ওঠানামার সময় যাত্রীদের পা পিছলে পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “লোহার রড বের হয়ে গেছে, নিচে ফাঁপা হয়ে গেছে। আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে খুব ভয়ে থাকি। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেটির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকা সত্ত্বেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সংস্কার বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ডও টানানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জানান, “এ ধরনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা দ্রুত মেরামত না করলে তা বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। লোড নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেলে হঠাৎ ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অধিক কার্যকর ও মানবিক।”

কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

স্থানীয় জনগণ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই জেটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুর্ঘটনার পর নয়, বরং দুর্ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই দায়িত্বশীলতার পরিচয়—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল। এখনই উদ্যোগ না নিলে একটি ছোট অবহেলা বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে।