পুরাই থ্রিলার মুভির মতো কাহিনী

- আপডেট সময় ১২:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / ২৬৬ বার পড়া হয়েছে
পুরাই থ্রিলার মুভির মতো কাহিনী! ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ সম্ভবত আসলেই ইসরায়েলি এজেন্ট ছিল!
অভিযোগটা কয়েকমাস আগেই উঠেছিল। কিন্তু সে সময় এত বিস্তারিত বর্ণনা আসেনি। ফলে সে সময় অনেকেই নিউজটাকে সন্দেহ করেছিল। কিন্তু এবার নিউ ইয়র্ক টাইমস এত ডিটেইল রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যে, এটাকে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।
রিপোর্ট অনুযায়ী মোটামুটি ২০২৩ সাল থেকেই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আহমাদিনেজাদকে রিক্রুট করার চেষ্টা করছিল। দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম মিটিং হয়েছিল গুয়াতেমালায়। পরিবেশ বিষয়ক একটা মিটিংয়ের ছদ্মাবরণে।
এরপর ২০২৪ সালে ঘটে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ঘটনা। সে সময় হাঙ্গেরির সরকার দেশটার একটা ইউনিভার্সিটিকে দিয়ে ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক একটা সেমিনারের আয়োজন করায়।
সেমিনারে দেশ-বিদেশের অনেক প্রফেসর, বিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় আহমাদিনেজাদকেও।
বাস্তবে সেমিনারটার উদ্দেশ্যই ছিল ওটা। আহমাদিনেজাদকে দাওয়াত দেওয়া এবং সেমিনারের আড়ালে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তার মিটিংয়ের ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়া। রিপোর্ট অনুযায়ী ঐ মিটিংয়ে আহমাদিনেজাদের সাথে দেখা করেছিল স্বয়ং মোসাদের পরিচালক, ডেভিড বার্নেয়া!
ইসরায়েল চাচ্ছিল খামেনিকে সরিয়ে অন্য কাউকে ইরানের ক্ষমতায় বসাতে। আর সেজন্য আহমাদিনেজাদই ছিল তাদের পছন্দ।
ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে আহমাদিনেজাদ যেভাবে কট্টর আমেরিকা-ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে মডারেট সুরে কথা বলছিল, আইআরজিসির টুকটাক সমালোচনা করছিল, তাতে ইসরায়েলের মনে হয়েছিল, সেই হতে পারে তাদের উপযুক্ত এজেন্ট।
গুয়াতেমালা এবং হাঙ্গেরি – উভয় দেশেই আহমাদিনেজাদের সাথে আইআরজিসির গার্ড ছিল। কিন্তু দুইবারই আহমাদিনেজাদ গার্ডদেরকে ফাঁকি দিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যায় এবং গোপন মিটিং সেরে ফিরে আসে।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, প্রফেসরদের সাথে জরুরী মিটিংয়ে গিয়েছিল সে। কিন্তু আইআরজিসি ঠিকই তাকে সন্দেহ করে এবং তাকে গৃহবন্দী করে রাখে।
এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন আমেরিকা-ইসরায়েলের পরিকল্পনা ছিল, খামেনিকে হত্যা করে আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিস্থিতি তৈরি করা।
ফলে যুদ্ধের প্রথমদিনই তারা আহমাদিনেজাদ যে বাসায় নজরবন্দী ছিল, সেই বাসায় গার্ড হাউজের উপর এবং গার্ডদের গাড়ির উপর বিমান হামলা করে। এর পরপরই মোসাদ এজেন্টদের একটা গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করে একটা সেফ হাউজে নিয়ে যায়। কিন্তু আহমাদিনেজাদ ক্ষমতা গ্রহণ করার ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী ঐ ঘটনার পর থেকে আহমাদিনেজাদ পুনরায় গৃহবন্দী অবস্থায় আছে। বাস্তবেও যুদ্ধের এত মাস আহমাদিনেজাদকে কোথাও দেখা যায়নি। কেবলমাত্র গত সপ্তায় খামেনির জানাজায় তাকে এক নজর শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়।
রিপোর্টে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আহমাদিনেজাদের এক ঘনিষ্ঠ সহকর্মীর বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আহমাদিনেজাদ যে ইসরায়েলিদের সাথে যোগাযোগ করেছে, সেটা সে টাকার লোভে করেনি। করেছে ক্ষমতার জন্য।
পরপর তিনবার তার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থিতা বাতিল করে দেওয়ায় ইরানের শাসকশ্রেণির উপর সে ক্ষুব্ধ ছিল। তাছাড়া তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আমেরিকা-ইসরায়েল হামলা চালিয়ে খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করবেই। সেক্ষেত্রে সম্ভাবনা আছে, তারা এমন কাউকে ইরানের ক্ষমতায় বসাবে, যে আসলে ইরান সম্পর্কে কিছুই জানে না। তার দ্বারা ইরানের ক্ষতিই হবে বেশি।
সেজন্যই আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলের সাথে যোগাযোগ করতে এবং ইসরায়েলের হয়ে কাজ করতে রাজি হয়েছিল, যেন খামেনিকে সরানোর পর তাকে ক্ষমতায় বসানো হয়, এবং সে দেশকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী চালাতে পারে।
রিপোর্টটার কতটুকু সত্য, বলা মুশকিল। কিন্তু প্রথমদিকে হাঙ্গেরির ইউনিভার্সিটির নাম, প্রফেসরের নাম, সেনিমারের টাইমলাইন যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, ওগুলো মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা নাই। ফলে আহমাদিনেজাদের সাথে মোসাদের যে আসলেই মিটিং হয়েছিল, সেটা মোটামুটি নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া যায়।
বাদবাকি তার আসল পরিকল্পনা কী ছিল, সে কতটুকু ইসরায়েলের হয়ে কাজ করছিল, আসলেই তার ক্ষমতায় বসার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেগুলো হয়তো ভবিষ্যতে আরও পরিষ্কার হবে।


















