কক্সবাজার ০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৮ বছরেও রহস্য কাটেনি তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপের, আধুনিক জরিপের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদন: এমএ বাপ্পি
  • আপডেট সময় ০৭:২৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহানে প্রায় চার দশক আগে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩৮ বছর পরও বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই তেলকূপের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরায় অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হোক।

 

প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে শালবাহান এলাকায় ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে তেলের সম্ভাবনার কথা জানা যায়। পরবর্তী সময়ে সেখানে অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮৮ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে তৎকালীন সময়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

 

পরবর্তী সময়ে বিদেশি একটি কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত কূপ খনন করা হয়। তবে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই তেল উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং কূপের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে পুরোনো প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন প্রকল্পটি বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে জনমনে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর একটি বার্ষিক প্রতিবেদনে শালবাহানহাট, তেঁতুলিয়ায় অনুসন্ধানী কূপকে ‘ড্রাই’ বা শুষ্ক কূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী কূপটিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য আবিষ্কার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি।

 

তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহল ওই এলাকায় পুনরায় অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালেও তেঁতুলিয়ায় শালবাহান তেলকূপ পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।

 

এদিকে, দেশের জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয়ও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।

 

এই পরিস্থিতিতে শালবাহান এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন করে ভূতাত্ত্বিক ও তেল-গ্যাস সম্ভাবনা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে আধুনিক থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানী কূপ খননের মাধ্যমে সেখানে আদৌ বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেল বা গ্যাসের মজুদ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

 

তবে শালবাহান প্রকল্প বন্ধের পেছনে তেল আমদানিকারক কোনো ‘সিন্ডিকেট’ বা বিদেশি চাপ কাজ করেছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরকারি নথি, তৎকালীন অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

দীর্ঘদিনের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো এবং শালবাহানের বর্তমান ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৩৮ বছরেও রহস্য কাটেনি তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলকূপের, আধুনিক জরিপের দাবি

আপডেট সময় ০৭:২৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহানে প্রায় চার দশক আগে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩৮ বছর পরও বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই তেলকূপের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরায় অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হোক।

 

প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে শালবাহান এলাকায় ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে তেলের সম্ভাবনার কথা জানা যায়। পরবর্তী সময়ে সেখানে অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮৮ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে তৎকালীন সময়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

 

পরবর্তী সময়ে বিদেশি একটি কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত কূপ খনন করা হয়। তবে উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই তেল উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং কূপের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে পুরোনো প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন প্রকল্পটি বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে জনমনে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর একটি বার্ষিক প্রতিবেদনে শালবাহানহাট, তেঁতুলিয়ায় অনুসন্ধানী কূপকে ‘ড্রাই’ বা শুষ্ক কূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী কূপটিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য আবিষ্কার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি।

 

তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহল ওই এলাকায় পুনরায় অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালেও তেঁতুলিয়ায় শালবাহান তেলকূপ পুনরায় চালুর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।

 

এদিকে, দেশের জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয়ও সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।

 

এই পরিস্থিতিতে শালবাহান এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন করে ভূতাত্ত্বিক ও তেল-গ্যাস সম্ভাবনা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে আধুনিক থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানী কূপ খননের মাধ্যমে সেখানে আদৌ বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেল বা গ্যাসের মজুদ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

 

তবে শালবাহান প্রকল্প বন্ধের পেছনে তেল আমদানিকারক কোনো ‘সিন্ডিকেট’ বা বিদেশি চাপ কাজ করেছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরকারি নথি, তৎকালীন অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

দীর্ঘদিনের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো এবং শালবাহানের বর্তমান ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে।