চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

- আপডেট সময় ১০:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় কর্মরত ও বদলি হওয়া প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এতে বহু পুরোনো মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারকাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র ও সিএমপির দাপ্তরিক চিঠি পর্যালোচনায় জানা গেছে, এসব পুলিশ সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত। তাদের মধ্যে সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও এসবির সদস্যও রয়েছেন।
সিএমপির উপকমিশনার (সদর) দপ্তর থেকে গত ৩ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে ১৮টি পৃথক চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯টায় আদালতে হাজির নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনেক সাক্ষীর বিরুদ্ধে একাধিকবার সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তারা আদালতে হাজির হননি।
আদালতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বদলির কারণে পুরোনো কর্মস্থলে সমন পাঠানো, সময়মতো নতুন কর্মস্থলে তা না পৌঁছানো এবং প্রশাসনিক জটিলতায় পুলিশ সাক্ষীদের হাজিরা ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, নোয়াখালীতেও ১২১ জন পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সাক্ষ্য দিতে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুর রাজ্জাক বলেন, সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে মামলা জট বাড়তে থাকে। আর সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ জানান, বদলি, অসুস্থতা, সমন না পাওয়া বা পৌঁছাতে বিলম্বসহ বিভিন্ন কারণে অনেক পুলিশ সদস্য আদালতে হাজির হতে পারেন না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী বলেন, পুলিশের সাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর সমস্যা। সাক্ষীদের হাজিরা নিশ্চিতের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

















