কক্সবাজার ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রসায়নে নোবেল পেলেন অঁরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৫:৩২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:

রসায়নের অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অ-রৈখিক প্রভাব এবং স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের অঁরি বি কাগান এবং জাপানের কেনসো সোয়াই।

সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস আজ এই বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি এবং মানবদেহের জন্য কার্যকরী রাসায়নিক কণা তৈরিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিজয়ীরা সনদ ও মেডেলের পাশাপাশি পুরস্কারের অর্থ পাবেন, যা তাদের মধ্যে সমবণ্টন করা হবে।

১৯০১ সালে প্রবর্তনের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রসায়নে নোবেল পুরস্কার মোট ১১৮ বার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সহ কিছু বছর এই বিভাগে পুরস্কার দেয়া সম্ভব হয়নি।

২০২৬ সালের নতুন দু’জন বিজ্ঞানীসহ এ পর্যন্ত রসায়নে মোট নোবেল বিজয়ীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২ জনে।

বিজ্ঞানের ইতিহাসে মাত্র দু’জন বিজ্ঞানী রসায়নে দু’বার করে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন ফ্রেডরিক সেঙ্গার (১৯৫৮ ও ১৯৮০) এবং কে ব্যারি শার্পলেস (২০০১ ও ২০২২)।

এছাড়া কিংবদন্তি বিজ্ঞানী মেরি ক্যুরি দুই ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পেয়েছিলেন, ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে।

নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানী ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ ১৯০১ সালে রসায়নে প্রথম নোবেল পান। রাসায়নিক গতিবিদ্যা এবং দ্রবণের অসমোটিক চাপ আবিষ্কারের মাধ্যমে রসায়নের ভিত্তি গড়ার জন্য তিনি এই পুরস্কার পান।

২০২৫ সালে জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্য/অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন এবং জর্ডান/যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম ইয়াগি। মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক বা ধাতব-জৈব কাঠামো তৈরির যুগান্তকারী প্রযুক্তির জন্য যৌথভাবে তারা এই পুরস্কার পান।

রসায়নে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পাওয়ার রেকর্ডটি ফরাসি বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরির। ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি তার স্ত্রী ইরেন জোলিও-ক্যুরির সাথে যৌথভাবে নোবেল পান।

কেবল রসায়নেই নয়, নোবেলের পুরো ইতিহাসেই সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পাওয়ার অনন্য রেকর্ড বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফের। ২০১৯ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরির নেপথ্য অবদানের জন্য যখন তিনি নোবেল পান, তখন তার বয়স ছিল ৯৭ বছর।

নারী বিজয়ী : রসায়নে এ পর্যন্ত মোট আটজন নারী নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই তালিকায় প্রথম নামটি বিজ্ঞানী মেরি ক্যুরির (১৯১১)।

রীতি অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের রসায়নের এই দুই নতুন নোবেলজয়ীর হাতে মেডেল, ডিপ্লোমা ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেয়া হবে।

সূত্র : বাসস

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রসায়নে নোবেল পেলেন অঁরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

আপডেট সময় ০৫:৩২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক:

রসায়নের অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অ-রৈখিক প্রভাব এবং স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের অঁরি বি কাগান এবং জাপানের কেনসো সোয়াই।

সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস আজ এই বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি এবং মানবদেহের জন্য কার্যকরী রাসায়নিক কণা তৈরিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিজয়ীরা সনদ ও মেডেলের পাশাপাশি পুরস্কারের অর্থ পাবেন, যা তাদের মধ্যে সমবণ্টন করা হবে।

১৯০১ সালে প্রবর্তনের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রসায়নে নোবেল পুরস্কার মোট ১১৮ বার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সহ কিছু বছর এই বিভাগে পুরস্কার দেয়া সম্ভব হয়নি।

২০২৬ সালের নতুন দু’জন বিজ্ঞানীসহ এ পর্যন্ত রসায়নে মোট নোবেল বিজয়ীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২ জনে।

বিজ্ঞানের ইতিহাসে মাত্র দু’জন বিজ্ঞানী রসায়নে দু’বার করে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন ফ্রেডরিক সেঙ্গার (১৯৫৮ ও ১৯৮০) এবং কে ব্যারি শার্পলেস (২০০১ ও ২০২২)।

এছাড়া কিংবদন্তি বিজ্ঞানী মেরি ক্যুরি দুই ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পেয়েছিলেন, ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে।

নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানী ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ ১৯০১ সালে রসায়নে প্রথম নোবেল পান। রাসায়নিক গতিবিদ্যা এবং দ্রবণের অসমোটিক চাপ আবিষ্কারের মাধ্যমে রসায়নের ভিত্তি গড়ার জন্য তিনি এই পুরস্কার পান।

২০২৫ সালে জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্য/অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন এবং জর্ডান/যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম ইয়াগি। মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক বা ধাতব-জৈব কাঠামো তৈরির যুগান্তকারী প্রযুক্তির জন্য যৌথভাবে তারা এই পুরস্কার পান।

রসায়নে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পাওয়ার রেকর্ডটি ফরাসি বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরির। ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি তার স্ত্রী ইরেন জোলিও-ক্যুরির সাথে যৌথভাবে নোবেল পান।

কেবল রসায়নেই নয়, নোবেলের পুরো ইতিহাসেই সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পাওয়ার অনন্য রেকর্ড বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফের। ২০১৯ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরির নেপথ্য অবদানের জন্য যখন তিনি নোবেল পান, তখন তার বয়স ছিল ৯৭ বছর।

নারী বিজয়ী : রসায়নে এ পর্যন্ত মোট আটজন নারী নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই তালিকায় প্রথম নামটি বিজ্ঞানী মেরি ক্যুরির (১৯১১)।

রীতি অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের রসায়নের এই দুই নতুন নোবেলজয়ীর হাতে মেডেল, ডিপ্লোমা ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেয়া হবে।

সূত্র : বাসস