কক্সবাজার ১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাছি এত দ্রুত পালায় কেন? চোখের গঠনেই লুকিয়ে বিস্ময়কর রহস্য

তাশরিফুল ইসলাম
  • আপডেট সময় ০৪:০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে

মাছি তাড়াতে গিয়ে কখনো খেয়াল করেছেন, হাত যতো দ্রুতই নামুক না কেন, মাছি তার আগেই হাওয়া হয়ে যায়?

 

আপনার মনে হতে পারে মাছি হয়তো কোনো বিশেষ শক্তি নিয়ে জন্মেছে। আসলে তা নয়, মূল রহস্যটা লুকিয়ে আছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আর মাছির চোখের তথ্য প্রসেস করার বৈজ্ঞানিক পার্থক্যে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Frames Per Second (FPS) থিওরি।

 

আমরা যখন কোনো কিছু দেখি, তখন আমাদের চোখের সামনে পর পর সাজানো কতগুলো ফ্রেম ভেসে ওঠে। মানুষের মস্তিষ্ক ও চোখ প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায় 60 FPS প্রসেস করে চারপাশের জগতকে স্বাভাবিক গতিতে দেখতে পায়। কিন্তু মাছির ক্ষেত্রে এই প্রসেসিং ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভিন্ন পর্যায়ের। মাছির Compound Eyes এবং ক্ষিপ্র স্নায়ুতন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 250-260 FPS প্রসেস করতে পারে। এর ফলে আপনি যখন সর্বোচ্চ গতিতে সজোরে হাত চালিয়ে মাছি মারতে যান, আপনার দৃষ্টিতে যা রকেট গতি, মাছির চোখে তা নেমে আসে অতি ধীরগতির এক Slow-motion দৃশ্য হিসেবে। আপনার হাতটি নিচে নামতে নামতে মাছির মস্তিষ্ক অন্তত ৪ গুণ বেশি সময় পেয়ে যায় বিপদটি আঁচ করার জন্য, আর সেই সুবাদে সে অনায়াসেই ডানা মেলে সটকে পড়ে।

 

প্রকৃতির তৈরি এমন এক হাই-স্পিড ভিশনকে টেক্কা দিয়ে মাছি মারতে হলে গতি নয়, কৌশল কাজে লাগাতে হয়। শুরুতে একদম ধীরগতিতে হাত মাছির কাছাকাছি নিয়ে যেতে হয়, যাতে মাছির চোখ সেটিকে বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করতে না পারে। এরপর শেষ মুহূর্তে সরাসরি মাছির গায়ের ওপর আঘাত না করে, তার বসার স্থান থেকে সামান্য ওপরে ও পেছনের ফাঁকা জায়গায় আক্রমণ চালাতে হয়। কারণ মাছি ওড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে ওপরের ও পেছনের দিকে লাফ দেয়, ফলে সে সোজা আপনার হাতের ফাঁদে এসে আটকা পড়ে।

 

মাছির চোখের এই প্রাকৃতিক কৌশলটি কিন্তু হুবহু কাজ করে আধুনিক Camera Technology-তেও। একটি ক্যামেরার FPS যতো বেশি হবে, সেটি ততো বেশি ফ্রেম ধরে রেখে যেকোনো দ্রুতগতির মুহূর্তকে অত্যন্ত মসৃণভাবে ভিডিওতে বন্দি করতে পারে। কম FPS-এ শুট করা ভিডিওকে স্লো-মোশন করতে গেলে পর্যাপ্ত ফ্রেমের অভাবে ভিডিও আটকে আটকে যায় এবং মান নষ্ট হয়ে পড়ে। অন্যদিকে High FPS Camera মাছির চোখের মতোই প্রতি সেকেন্ডে অতিরিক্ত ফ্রেম প্রসেস করতে পারে বলে যেকোনো ক্ষিপ্র অ্যাকশন দৃশ্যকে নিখুঁত ও চমৎকার স্লো-মোশনে রূপান্তর করে ফেলে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মাছি এত দ্রুত পালায় কেন? চোখের গঠনেই লুকিয়ে বিস্ময়কর রহস্য

আপডেট সময় ০৪:০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মাছি তাড়াতে গিয়ে কখনো খেয়াল করেছেন, হাত যতো দ্রুতই নামুক না কেন, মাছি তার আগেই হাওয়া হয়ে যায়?

 

আপনার মনে হতে পারে মাছি হয়তো কোনো বিশেষ শক্তি নিয়ে জন্মেছে। আসলে তা নয়, মূল রহস্যটা লুকিয়ে আছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আর মাছির চোখের তথ্য প্রসেস করার বৈজ্ঞানিক পার্থক্যে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Frames Per Second (FPS) থিওরি।

 

আমরা যখন কোনো কিছু দেখি, তখন আমাদের চোখের সামনে পর পর সাজানো কতগুলো ফ্রেম ভেসে ওঠে। মানুষের মস্তিষ্ক ও চোখ প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায় 60 FPS প্রসেস করে চারপাশের জগতকে স্বাভাবিক গতিতে দেখতে পায়। কিন্তু মাছির ক্ষেত্রে এই প্রসেসিং ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভিন্ন পর্যায়ের। মাছির Compound Eyes এবং ক্ষিপ্র স্নায়ুতন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 250-260 FPS প্রসেস করতে পারে। এর ফলে আপনি যখন সর্বোচ্চ গতিতে সজোরে হাত চালিয়ে মাছি মারতে যান, আপনার দৃষ্টিতে যা রকেট গতি, মাছির চোখে তা নেমে আসে অতি ধীরগতির এক Slow-motion দৃশ্য হিসেবে। আপনার হাতটি নিচে নামতে নামতে মাছির মস্তিষ্ক অন্তত ৪ গুণ বেশি সময় পেয়ে যায় বিপদটি আঁচ করার জন্য, আর সেই সুবাদে সে অনায়াসেই ডানা মেলে সটকে পড়ে।

 

প্রকৃতির তৈরি এমন এক হাই-স্পিড ভিশনকে টেক্কা দিয়ে মাছি মারতে হলে গতি নয়, কৌশল কাজে লাগাতে হয়। শুরুতে একদম ধীরগতিতে হাত মাছির কাছাকাছি নিয়ে যেতে হয়, যাতে মাছির চোখ সেটিকে বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করতে না পারে। এরপর শেষ মুহূর্তে সরাসরি মাছির গায়ের ওপর আঘাত না করে, তার বসার স্থান থেকে সামান্য ওপরে ও পেছনের ফাঁকা জায়গায় আক্রমণ চালাতে হয়। কারণ মাছি ওড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে ওপরের ও পেছনের দিকে লাফ দেয়, ফলে সে সোজা আপনার হাতের ফাঁদে এসে আটকা পড়ে।

 

মাছির চোখের এই প্রাকৃতিক কৌশলটি কিন্তু হুবহু কাজ করে আধুনিক Camera Technology-তেও। একটি ক্যামেরার FPS যতো বেশি হবে, সেটি ততো বেশি ফ্রেম ধরে রেখে যেকোনো দ্রুতগতির মুহূর্তকে অত্যন্ত মসৃণভাবে ভিডিওতে বন্দি করতে পারে। কম FPS-এ শুট করা ভিডিওকে স্লো-মোশন করতে গেলে পর্যাপ্ত ফ্রেমের অভাবে ভিডিও আটকে আটকে যায় এবং মান নষ্ট হয়ে পড়ে। অন্যদিকে High FPS Camera মাছির চোখের মতোই প্রতি সেকেন্ডে অতিরিক্ত ফ্রেম প্রসেস করতে পারে বলে যেকোনো ক্ষিপ্র অ্যাকশন দৃশ্যকে নিখুঁত ও চমৎকার স্লো-মোশনে রূপান্তর করে ফেলে।