রেল সেতুর রেলিংয়ের পাইপ চুরি, ঝুঁকিতে চলাচল

- আপডেট সময় ০৮:০২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ওপর নবনির্মিত রেল সেতুর বিকল্প পথের নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত রেলিংয়ের লোহার পাইপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেতুর বিকল্প পথ দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা সেতুর বিকল্প পথের রেলিংয়ের লোহার পাইপ কেটে ও খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর বিএমচর অংশের বিকল্প পথের রেলিংয়ের প্রায় ১৫০ ফুটের বেশি অংশের লোহার পাইপ নেই। রেলিংয়ের ওই অংশ উন্মুক্ত থাকায় অসতর্কভাবে চলাচল করলে নিচে পড়ে গুরুতর দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর নবনির্মিত রেল সেতু ও আশপাশের নির্জন এলাকায় বখাটেদের আনাগোনা বেড়ে যায়। সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডাও বসে বলে দাবি তাঁদের। তবে পাইপ চুরির সঙ্গে মাদকসেবীদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সেতু এলাকার বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী রুবেল খান বলেন, “মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটার পর থেকে আমরা আতঙ্কে আছি। রেলিংয়ের পাইপ না থাকায় রাতে এই পথ দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। অসাবধানতাবশত পা পিছলে গেলে সরাসরি মাতামুহুরী নদীতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও এ বিষয়ে স্থানীয় কক্স অনলাইন বার্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরও কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের ধারণা, এ ঘটনায় সরকারের লক্ষাধিক টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।
চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিভক্ত বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, “রেল সেতুটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের অংশ। মঙ্গলবার রাতের চুরির বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবেও নজরদারি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। রেল সেতুর পাইপ চুরির মতো অপরাধ অত্যন্ত দুঃখজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, চুরি যাওয়া রেলিংয়ের অংশ দ্রুত সংস্কার, সেতু এলাকায় নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।



















