কক্সবাজার ১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেলে রুম ভাড়া দিলে আইনি পদক্ষেপ

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৮:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

কক্সবাজারে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে আবাসিক হোটেলগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পরিচয় ও বয়স যাচাই ছাড়া কক্ষ ভাড়া দেয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না।

 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নিরাপদ পর্যটনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

 

শামীম আরা স্বপ্না বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের তাদের কথিত প্রেমিকদের সঙ্গে অবস্থান করতে দেয়ার অভিযোগ ও ঘটনা উদ্বেগজনক। যেসব মেয়ের একা হোটেলে অবস্থানের উপযুক্ত বয়স হয়নি, তাদের পরিচয় ও বয়স যথাযথভাবে যাচাই না করে কক্ষ ভাড়া দেয়া অনুচিত। এ ধরনের অনিয়মের কারণে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে, যার পরিণতিতে প্রাণহানি কিংবা আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র। এ এলাকার সুনাম ও পর্যটকদের নিরাপত্তা রক্ষায় হোটেল ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিভাবকের সঙ্গে আসা পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে থাকার ব্যবস্থা করা গেলেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের পরিচয় ও বয়স যাচাই না করে প্রেমিকের সঙ্গে অবস্থানের সুযোগ দেয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক ও ব্যবস্থাপকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 

সভায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসার পেছনে সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসে। গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজারের একটি হোটেলে তার কথিত প্রেমিক রাজুর সঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তার বয়স ১৮ বছর লেখা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রকৃত বয়সের সঙ্গে নিবন্ধিত বয়সের এই অসংগতি হোটেলে অতিথির পরিচয় ও বয়স যাচাইয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

মতবিনিময় সভায় বিষয়টি তুলে ধরে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান বলেন, কুমিল্লার ওই ঘটনার পর কক্সবাজারের নামও আলোচনায় এসেছে। এতে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে জেলার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি মহল কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন নিরুৎসাহিত করতে চায়। তাই পর্যটনশিল্পের স্বার্থে নেতিবাচক প্রচারণা ও অপতৎপরতা মোকাবিলার পাশাপাশি জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে।

 

পুলিশ সুপার নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা যেন পুরো পর্যটন এলাকার পরিচিতি ও সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেলে রুম ভাড়া দিলে আইনি পদক্ষেপ

আপডেট সময় ০৮:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে আবাসিক হোটেলগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পরিচয় ও বয়স যাচাই ছাড়া কক্ষ ভাড়া দেয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না।

 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নিরাপদ পর্যটনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

 

শামীম আরা স্বপ্না বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের তাদের কথিত প্রেমিকদের সঙ্গে অবস্থান করতে দেয়ার অভিযোগ ও ঘটনা উদ্বেগজনক। যেসব মেয়ের একা হোটেলে অবস্থানের উপযুক্ত বয়স হয়নি, তাদের পরিচয় ও বয়স যথাযথভাবে যাচাই না করে কক্ষ ভাড়া দেয়া অনুচিত। এ ধরনের অনিয়মের কারণে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে, যার পরিণতিতে প্রাণহানি কিংবা আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র। এ এলাকার সুনাম ও পর্যটকদের নিরাপত্তা রক্ষায় হোটেল ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিভাবকের সঙ্গে আসা পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে থাকার ব্যবস্থা করা গেলেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের পরিচয় ও বয়স যাচাই না করে প্রেমিকের সঙ্গে অবস্থানের সুযোগ দেয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক ও ব্যবস্থাপকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 

সভায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসার পেছনে সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসে। গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজারের একটি হোটেলে তার কথিত প্রেমিক রাজুর সঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তার বয়স ১৮ বছর লেখা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রকৃত বয়সের সঙ্গে নিবন্ধিত বয়সের এই অসংগতি হোটেলে অতিথির পরিচয় ও বয়স যাচাইয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

মতবিনিময় সভায় বিষয়টি তুলে ধরে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান বলেন, কুমিল্লার ওই ঘটনার পর কক্সবাজারের নামও আলোচনায় এসেছে। এতে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে জেলার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি মহল কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন নিরুৎসাহিত করতে চায়। তাই পর্যটনশিল্পের স্বার্থে নেতিবাচক প্রচারণা ও অপতৎপরতা মোকাবিলার পাশাপাশি জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে।

 

পুলিশ সুপার নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা যেন পুরো পর্যটন এলাকার পরিচিতি ও সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।