ছুটি শেষে বাড়ি ফিরে গচ্ছিত ৫০ লাখ টাকা-৮ ভরি গহনা উধাও

- আপডেট সময় ০৭:৪১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নরসিংদী শহরের সেবাসংঘ এলাকার নরেশ চন্দ্র সাহার সাততলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
পাঁচ বছর ধরে এ ফ্ল্যাটে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন সুখন চৌধুরি (৫১)।
তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচরের ইভা ডাইংয়ে রং মাস্টারের কাজ করেন। নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার গুহিয়ালা গ্রামে তার বাড়ি।
ভুক্তভোগী ওই পরিবারের দাবি, পুরো বাসা তছনছ করে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সুখন চৌধুরী।
থানার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বজনদের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে গত রোববার দুপুরে বাসা তালাবদ্ধ করে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টার গুহিয়ালা গিয়েছিলেন তারা। পূজা উদযাপন শেষে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নরসিংদীর বাসায় ফেরেন তারা। বাসায় পৌঁছার পর তারা দরজা খুলতে পারছিলেন না। তালা কাটার পরও ওই দরজা খুলতে না পারায় তাদের সন্দেহ হয়।
বাসাটির পেছনের দিকে গিয়ে সুখন চৌধুরী দেখেন, জানালার গ্রিল কাটা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই জানালার গ্রিল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দিয়ে তিনি দেখেন, ঘরের আসবাবপত্র ও জামাকাপড় এলোমেলো অবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং আলমারি ভাঙা। আলমারিটির ভেতরে রাখা ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আর নগদ ৫০ লাখ টাকাও নেই।
সুখন চৌধুরী বলেন, আমার ৩০ বছরের সঞ্চয় ও বাড়ির জমি বিক্রি করার ৫০ লাখ টাকা দিয়ে একটি ডাইং কারখানা করার জন্য টাকাগুলো এনে বাসায় রেখেছিলাম। ডাইং কেনার কথাবার্তাও ফাইনাল হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রীর গহনাগুলোও আলমারিতে ছিল। গত ছয়দিন আমরা বাসায় না থাকার সুযোগে এর মধ্যেই কোন এক সময় চোরেরা এসব চুরি করে নিয়ে গেছে। একটা ডাইং করার সারাজীবনের স্বপ্নটা তারা চুরি করে নিয়ে গেছে। তবে এ ব্যাপারে আমি কাউকে সন্দেহও করতে পারছি না। পুলিশের কাছে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আমার টাকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যারা এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।



















