‘দ্বৈত ভূমিকায় স্বার্থের সংঘাত’: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে সতর্ক করলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ

- আপডেট সময় ০২:২৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩০৮ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বৈত দায়িত্বকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, “এখানে স্পষ্ট ক্ল্যাশ অব ইন্টারেস্ট আছে। একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে সরকার পরিচালনা ও তার মূল্যায়নকারী কমিশনের নেতৃত্ব দিতে পারেন না।”
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই আছি। কিন্তু যে ব্যক্তি সরকারের প্রধান, সেই যদি ঐকমত্য কমিশনেরও সভাপতি হন, তাহলে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যেসব সুপারিশ সরকারকে দেওয়া হয়েছে, তা জুলাই জাতীয় সনদের চেতনা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। এই সনদে আমরা সবাই স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারে, বিভক্তির জন্য নয়।”
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক দাবি করেন, গণভোট আয়োজনের বিষয়ে কমিশনে কোনো আলোচনা হয়নি।
“নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট আয়োজনের কোনো বিষয় কমিশনে তোলা হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে, তা নিয়েই জাতীয় সনদ হবে—এমনটাই ছিল চুক্তি। প্রধান উপদেষ্টা সেই অবস্থান থেকে সরে যেতে পারেন না,” বলেন তিনি।
তিনি আরও যোগ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করব, যেন তারা এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যা জাতিকে বিভক্ত বা অনৈক্যের পথে ঠেলে দেবে।”
সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা যখন জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করি, তখন সেখানে ৮৪টি দফা ছিল। এর মধ্যে কিছু দফা নিয়ে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট ছিল, কিন্তু তা বিরোধিতা নয়—গঠনমূলক মতপার্থক্য। আমরা বলেছিলাম, যে দল জনগণের ম্যান্ডেট পাবে, তারা নিজেদের নীতির আলোকে সেই দফাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে।”
তিনি জানান, “প্রধান উপদেষ্টা তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে ঐক্য বজায় রাখা হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, কমিশনের অনেক সিদ্ধান্ত সনদের মূল প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
গণভোটের সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের এখানে কিছু মতপার্থক্য আছে। কিন্তু আমরা মনে করি, এখন গণভোট আয়োজনের সময় বা প্রয়োজন নেই। নির্বাচনের দিনই যদি সংসদীয় ভোটের সঙ্গে একটি ছোট ব্যালটে গণসমর্থন নেওয়া যায়, সেটাই হবে যুক্তিসঙ্গত, গ্রহণযোগ্য এবং ব্যয় সাশ্রয়ী।”
বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে কখনোই শেষ কথা বলা যায় না। এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি বর্তমানে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। “গণতান্ত্রিক ও ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি,” বলেন তিনি।
দশম ও দ্বাদশ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবার অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে বললেও আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “তখন যারা বর্জন করেছিল, তারা নিষিদ্ধ দল ছিল না, তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও ছিল না। এখন আওয়ামী লীগের অবস্থা ভিন্ন। তাই তাদের অনুপস্থিতিতে নির্বাচন অবৈধ হবে—এই ধারণা আমরা সমর্থন করি না।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ শেষ পর্যন্ত বলেন, “আমরা চাই, এই নির্বাচন যেন জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে হয়, বিভাজনের নয়। গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”




















