কক্সবাজার ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো উপকূলীয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন এর

বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

এমএ বাপ্পি
  • আপডেট সময় ১০:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১০৮৬ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উপকূলীয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিনব্যাপী নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা প্রদর্শনীতে উচ্ছ্বাসে মুখর থাকে অনুষ্ঠানস্থল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, “শিক্ষার পরিপূর্ণতা কেবল বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মননশীল, আত্মবিশ্বাসী ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এই বিদ্যালয়টি যে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী বিকাশে কাজ করছে—এ আয়োজন তার দৃঢ় প্রমাণ।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আবুল মাসুদ। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ একসাথে নিশ্চিত করাই আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য। আজকের এই প্রাণবন্ত আয়োজন প্রমাণ করে—উপকূলীয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন শুধু শিক্ষায় নয়, সংস্কৃতিতেও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছে।”

 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শফিউল আলম, আলী ছিদ্দিকী, শরীফ হোসেন, হাফেজ নুরুল আজিম। উপকূলীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি ইয়ার মুহাম্মাদ গুরা মিয়া, সাবেক সহ সভাপতি আবদুল খালেক, সদস্য আবুল কালাম। তরুণ সমাজসেবক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা বশির আহমদ, তরুণ উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানের প্রথম সেশনের সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল জিয়া এবং দ্বিতীয় সেশনের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি নাসির উদ্দীন। তারা বলেন,
“বিদ্যালয় মানে শুধুই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নয়; শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ ও নৈতিক চরিত্র গঠনেরও জায়গা। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

 

সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল্লাহ বিন ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানে অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

অতিথিদের বক্তব্যের পরে জেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা ও স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্নে বিশেষ অবদানের জন্য কাজী আবুল মাসুদকে সম্মাননা স্মারক এবং প্রতিষ্ঠালগ্নে স্কুলে বিশেষ অবদান রাখার জন্যে মরহুম বেলাল উদ্দিন ও ১নং ওয়ার্ড রক্ষায় ১ম শহীদ হিসেবে মরহুম শহীদ শিহাব কবির নাহিদকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

দিনশেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত এ আয়োজন আগামী বছর আরও বড় পরিসরে করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো উপকূলীয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন এর

বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

আপডেট সময় ১০:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উপকূলীয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিনব্যাপী নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা প্রদর্শনীতে উচ্ছ্বাসে মুখর থাকে অনুষ্ঠানস্থল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, “শিক্ষার পরিপূর্ণতা কেবল বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মননশীল, আত্মবিশ্বাসী ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এই বিদ্যালয়টি যে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী বিকাশে কাজ করছে—এ আয়োজন তার দৃঢ় প্রমাণ।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আবুল মাসুদ। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ একসাথে নিশ্চিত করাই আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য। আজকের এই প্রাণবন্ত আয়োজন প্রমাণ করে—উপকূলীয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন শুধু শিক্ষায় নয়, সংস্কৃতিতেও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছে।”

 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শফিউল আলম, আলী ছিদ্দিকী, শরীফ হোসেন, হাফেজ নুরুল আজিম। উপকূলীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি ইয়ার মুহাম্মাদ গুরা মিয়া, সাবেক সহ সভাপতি আবদুল খালেক, সদস্য আবুল কালাম। তরুণ সমাজসেবক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা বশির আহমদ, তরুণ উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানের প্রথম সেশনের সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল জিয়া এবং দ্বিতীয় সেশনের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি নাসির উদ্দীন। তারা বলেন,
“বিদ্যালয় মানে শুধুই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নয়; শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ ও নৈতিক চরিত্র গঠনেরও জায়গা। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

 

সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল্লাহ বিন ছিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানে অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

অতিথিদের বক্তব্যের পরে জেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা ও স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্নে বিশেষ অবদানের জন্য কাজী আবুল মাসুদকে সম্মাননা স্মারক এবং প্রতিষ্ঠালগ্নে স্কুলে বিশেষ অবদান রাখার জন্যে মরহুম বেলাল উদ্দিন ও ১নং ওয়ার্ড রক্ষায় ১ম শহীদ হিসেবে মরহুম শহীদ শিহাব কবির নাহিদকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

দিনশেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত এ আয়োজন আগামী বছর আরও বড় পরিসরে করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।