কক্সবাজার ১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় তচ্ছাখালী খাল থেকে বস্তাবন্দী নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার প্রধান আসামী জসিম উদ্দিন গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৭:২৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

উখিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় তচ্ছাখালী খাল থেকে বস্তাবন্দী অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৫)-কে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫ এর আভিযানিক দল।

শনিবার (০১ ডিসেম্বর) রাতে র‌্যাব-১৫, র‌্যাব-৭ এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের তচ্ছাখালী খাল থেকে পুলিশ বস্তাবন্দী অবস্থায় অর্ধগলিত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হলে জানা যায়—তার নাম রহিমা আক্তার (৩০)। তিনি উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেনের মেয়ে এবং পাশের হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।

আরও পড়ুন: স্বামীর সাথে ঘুরতে যাওয়ার ৭ দিন পর খালে মিলল নারীর মরদেহ

পরিবার জানায়, রহিমা আক্তার ০৬ নভেম্বর রাত ১১টার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র‌্যাব-১৫ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়—নিহত রহিমা আক্তারের সঙ্গে স্বামী জসিম উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া, হাতাহাতি এবং তালাকের হুমকি দিতেন জসিম।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্ত্রীকে “শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে” বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকে তারা উধাও হয়ে যান।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম উদ্দিন জানায়—পূর্বপরিকল্পিতভাবে এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি মোবারকের সহায়তায় রহিমাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হাত-পা চেপে ধরে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন।

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা লাশ মাটিচাপা দেয়। পরদিন স্থানীয়রা রক্ত দেখে সন্দেহ প্রকাশ করলে জসিম বিষয়টি ধামাচাপা দিতে “গরু পুঁতে রাখা হয়েছে” বলে প্রচার করেন।

পরবর্তীতে সন্দেহ বাড়তে থাকলে রাত ১০-১১টার দিকে লাশ তুলে বস্তাবন্দী করে তচ্ছাখালী খালে ফেলে দেয়।

ঘটনার পর ভিকটিমের মা সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে উখিয়া থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রধান আসামি আটক হওয়ায় মামলাটির তদন্তে অগ্রগতি এসেছে বলে জানায় র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

উখিয়ায় তচ্ছাখালী খাল থেকে বস্তাবন্দী নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার প্রধান আসামী জসিম উদ্দিন গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৭:২৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

উখিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় তচ্ছাখালী খাল থেকে বস্তাবন্দী অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৫)-কে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫ এর আভিযানিক দল।

শনিবার (০১ ডিসেম্বর) রাতে র‌্যাব-১৫, র‌্যাব-৭ এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের তচ্ছাখালী খাল থেকে পুলিশ বস্তাবন্দী অবস্থায় অর্ধগলিত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হলে জানা যায়—তার নাম রহিমা আক্তার (৩০)। তিনি উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেনের মেয়ে এবং পাশের হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।

আরও পড়ুন: স্বামীর সাথে ঘুরতে যাওয়ার ৭ দিন পর খালে মিলল নারীর মরদেহ

পরিবার জানায়, রহিমা আক্তার ০৬ নভেম্বর রাত ১১টার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র‌্যাব-১৫ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়—নিহত রহিমা আক্তারের সঙ্গে স্বামী জসিম উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া, হাতাহাতি এবং তালাকের হুমকি দিতেন জসিম।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্ত্রীকে “শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে” বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকে তারা উধাও হয়ে যান।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম উদ্দিন জানায়—পূর্বপরিকল্পিতভাবে এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি মোবারকের সহায়তায় রহিমাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হাত-পা চেপে ধরে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন।

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা লাশ মাটিচাপা দেয়। পরদিন স্থানীয়রা রক্ত দেখে সন্দেহ প্রকাশ করলে জসিম বিষয়টি ধামাচাপা দিতে “গরু পুঁতে রাখা হয়েছে” বলে প্রচার করেন।

পরবর্তীতে সন্দেহ বাড়তে থাকলে রাত ১০-১১টার দিকে লাশ তুলে বস্তাবন্দী করে তচ্ছাখালী খালে ফেলে দেয়।

ঘটনার পর ভিকটিমের মা সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে উখিয়া থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রধান আসামি আটক হওয়ায় মামলাটির তদন্তে অগ্রগতি এসেছে বলে জানায় র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।