রামুর খুনিয়াপালংয়ে ছাত্রদল নেতার মায়ের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত শ্রমিকলীগ নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নাম

- আপডেট সময় ০৯:৪৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২২৯ বার পড়া হয়েছে
রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে শ্রমিকলীগ নেতা জহির আলম কালুর হামলায় ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন আরফাত ছোটনের মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা শ্রমিকলীগ নেতা জহির আলম কালুকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন—এমন গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনসাধারণের পাশাপাশি জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ওই বিএনপি নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশকারায় জহির এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পরও প্রকাশ্যে নিজের আধিপত্য দেখিয়ে চলছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, জমি সংক্রান্ত তুচ্ছ বিরোধের জেরে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন আরফাত ছোটনের মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক বিভিন্ন মহল থেকে অভিযুক্তকে আশ্রয়দাতা বিএনপি নেতাদের দলীয় শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি জানান। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ইয়াসিন আরফাত ছোটনের মাকে হত্যাকারী শ্রমিকলীগ নেতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বিএনপি নেতাদের দলীয় পদ থেকে অপসারণের জোর দাবি জানাচ্ছেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সংকটে দলীয় সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতা না পাওয়া হতাশাজনক। যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতো এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা হতো, তাহলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধী এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে ক্ষমা করা উচিত নয়।
এছাড়া যেসব নেতার কাছে ছোটন ন্যায়বিচারের আশায় গিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ নিহতের জানাজায় অংশ নেওয়ায় প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং ভবিষ্যতে যে কারও ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে—এ বাস্তবতা সবার মেনে নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, রোববার সকাল ১০টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খেদারঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেহেনা আক্তার ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন আরফাত ছোটনের মা।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং রাজনৈতিক প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
















