আগামীকাল ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস

- আপডেট সময় ০৯:৪৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / ৩২৫ বার পড়া হয়েছে
উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণমানুষের নেতা মজলুম মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চ দিবস আগামীকাল শনিবার। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে এই লং মার্চ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও পরিবেশগত আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ভারতের গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের কারণে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) যে ভয়াবহ পানিশূন্যতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল, তার প্রতিবাদেই ভাসানী এই বিশাল গণযাত্রা করেছিলেন।
পটভূমি ও কারণ
১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা বাঁধ পূর্ণ মেয়াদে চালু করলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের পদ্মা নদী ও এর শাখা-প্রশাখায় পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। নদীর নাব্যতা হ্রাস পায় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র পানিশূন্যতা এবং তীব্র খরা দেখা দেয়। ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। ধসে পড়ে কৃষি ব্যবস্থা। একই সাথে দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। তৎকালীন আন্তর্জাতিক মহলে এই ইস্যুটি জোরালোভাবে তোলার চেষ্টা করা হলেও খুব একটা ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। এই সংকটে দেশের আপামর জনগণকে সচেতন করতে এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মওলানা ভাসানী লং মার্চের ডাক দেন।
কূটনৈতিক ব্যর্থতা
আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনাগুলোর মাধ্যমে ভারত থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যর্থ হলে মওলানা ভাসানী সরাসরি গণআন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে সকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দান থেকে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে লাখো জনতার এই পদযাত্রা শুরু হয়। আন্দোলন পরিচালনার সময় মওলানা ভাসানীর বয়স ছিল ৯৩ বছরের কাছাকাছি। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি হুইলচেয়ারে এবং গাড়িতে চড়ে এই বিশাল কাফেলার নেতৃত্ব দেন।















