ফেসবুক পোস্ট ঘিরে কক্সবাজারে আলোচনা-সমালোচনা, কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কটাক্ষের অভিযোগ

- আপডেট সময় ০২:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / ৪০২ বার পড়া হয়েছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার সিটি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদেকের কাটা এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “খাম্বা তারেকে দল বিএনপি হলে, কসাই কাদের ও দেইল্লা রাজাকারের দল জামাত হবে না কেন? নাকি দেইল্লা রাজাকারের দল জামাত বললে নব্য বকধর্মিকেরা রাগ করবে?”
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুসারী, ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মন্তব্যটিকে একজন প্রয়াত ইসলামী ব্যক্তিত্বের প্রতি অসম্মানজনক বলে আখ্যায়িত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনায় ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ‘ডি. কৃষিবিদ মু. শহীদুল ইসলাম’ নামের একটি আইডি থেকে পোস্টটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে বলা হয়, আল্লামা সাঈদীর মতো ব্যক্তিত্ব বিরল এবং একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত হয়নি।
একইভাবে ‘আশিক ইবনে ইয়াকুব’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়, একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত।
আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ইসলামী বক্তা, তাফসিরকারক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর অনুসারীদের মতে, তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে তাঁর স্মরণে উত্থাপিত শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তবে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে মতভেদ ও বিতর্কও রয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম পোস্টটি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভুলবশত তাঁর আইডি থেকে পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে সমালোচনার মুখে সেটি মুছে ফেলা হয়। তিনি দাবি করেন, “সাঈদী সাহেব সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। অনিচ্ছাকৃতভাবে পোস্টটি দেওয়ায় আমিও মর্মাহত। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকেও নানা ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে তার ফেসবুক আইডি পরিদর্শন করলে দেখা যায় তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত রাজনৈতিক, ভিত্তিহীন ও অসামাজিক মন্তব্য লিখেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তিনি নানা পোস্টে এংগেজমেন্টে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ কমেন্টস করে থাকেন।
নিম্নোক্ত ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ফেসবুক লিংক https://www.facebook.com/share/1BGmTZ6pyX/

তবে এ বিষয়ে কক্সবাজার সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযত ভাষা ব্যবহার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন মহল।














