কক্সবাজার ০৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগ, পুনর্বহাল দাবি

এম এ বাপ্পি
  • আপডেট সময় ১২:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / ৩৬১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারে এক ব্যাংকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অন্যায় বদলি ও চাকরিচ্যুতির অভিযোগ এনে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সহ-সভাপতি এবং স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আবদুস সালাম এ দাবি করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ১৭ বছরের ব্যাংকিং কর্মজীবনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো শোকজ, বিভাগীয় মামলা বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ছিল না।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে তাকে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী ছুটি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কক্সবাজার সফরে স্বাগত জানাতে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ করে রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে তাকে স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা থেকে দিনাজপুর শাখায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আবদুস সালাম আরও বলেন, এনআরবিসি ব্যাংকের স্থায়ী চাকরি ছেড়ে ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকে যোগদান করেন। কিন্তু কোনো ধরনের শোকজ, বিভাগীয় তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই পরবর্তীতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

তিনি দাবি করেন, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় তিনি কাস্টমার সার্ভিস ডেস্কে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কোনো বিনিয়োগ অনুমোদন বা বিতরণ কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা গ্রাহক অভিযোগের কোনো রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকের কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক হয়রানির শিকার করেন, যার ফলে অনেক দক্ষ কর্মকর্তা চাকরি হারাচ্ছেন।

 

বর্তমানে তিনি বেকার অবস্থায় রয়েছেন বলে উল্লেখ করে বলেন, পরিবারের ভরণ-পোষণ, সন্তানের লেখাপড়া ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বিষয়টি মানবিক, আইনগত ও ন্যায়বিচারের আলোকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে জারিকৃত বদলি ও টারমিনেশন আদেশ বাতিলপূর্বক পূর্বের পদে পুনর্বহালের জন্য প্রধান উপদেষ্টা, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

একই সঙ্গে তিনি একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগ, পুনর্বহাল দাবি

আপডেট সময় ১২:২২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে এক ব্যাংকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অন্যায় বদলি ও চাকরিচ্যুতির অভিযোগ এনে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সহ-সভাপতি এবং স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আবদুস সালাম এ দাবি করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ১৭ বছরের ব্যাংকিং কর্মজীবনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো শোকজ, বিভাগীয় মামলা বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ছিল না।

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে তাকে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী ছুটি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কক্সবাজার সফরে স্বাগত জানাতে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ করে রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে তাকে স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা থেকে দিনাজপুর শাখায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আবদুস সালাম আরও বলেন, এনআরবিসি ব্যাংকের স্থায়ী চাকরি ছেড়ে ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকে যোগদান করেন। কিন্তু কোনো ধরনের শোকজ, বিভাগীয় তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই পরবর্তীতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

তিনি দাবি করেন, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় তিনি কাস্টমার সার্ভিস ডেস্কে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কোনো বিনিয়োগ অনুমোদন বা বিতরণ কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা গ্রাহক অভিযোগের কোনো রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকের কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক হয়রানির শিকার করেন, যার ফলে অনেক দক্ষ কর্মকর্তা চাকরি হারাচ্ছেন।

 

বর্তমানে তিনি বেকার অবস্থায় রয়েছেন বলে উল্লেখ করে বলেন, পরিবারের ভরণ-পোষণ, সন্তানের লেখাপড়া ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বিষয়টি মানবিক, আইনগত ও ন্যায়বিচারের আলোকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে জারিকৃত বদলি ও টারমিনেশন আদেশ বাতিলপূর্বক পূর্বের পদে পুনর্বহালের জন্য প্রধান উপদেষ্টা, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

একই সঙ্গে তিনি একটি পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।