কক্সবাজার ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়ার বেড়িবাঁধের টাকা বরাদ্দে অভিযোগ তোলপাড়

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ২৯১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ (বাপাউবো)-এর অধীনে কুতুবদিয়া উপজেলায় চলমান উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে চরম দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আপদকালীন জরুরি বাঁধ মেরামত কাজের সরকারি অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পোল্ডার নং-৭১-এর আওতায় অনুমোদিত সবগুলো কাজ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, আলী আকবর ডেইল, কৈয়ারবিল ও দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নে জিওটিউব স্থাপনসহ জরুরি বাঁধ মেরামতের জন্য মোট ১০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

নথিতে উল্লিখিত প্রকল্পভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—

 

নথির ১, ২ ও ৬ নম্বর ক্রমিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বায়ুবিদ্যুৎ এলাকায় দুটি এবং রোমাইপাড়া এলাকায় একটি প্রকল্পের কাজ ‘Nizam’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ২৬.৬৪ লাখ, ২৯.৯৯ লাখ এবং ২৯.৯৭ লাখ টাকা। নথির মন্তব্য অংশে সুপারিশকারী হিসেবে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে।

 

নথির ৩ নম্বর ক্রমিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বায়ুবিদ্যুৎ এলাকার একটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমের নাম উল্লেখ রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৯.৯৯ লাখ টাকা।

নথির ৪ ও ৫ নম্বর ক্রমিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বায়ুবিদ্যুৎ এলাকায় দুটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রেদওয়ানের নাম রয়েছে। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ১৯.৮১ লাখ ও ২৭.৪৫ লাখ টাকা।

 

নথির ৭ ও ৮ নম্বর ক্রমিকে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া এবং দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের বাতিঘরপাড়া এলাকায় দুটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কুতুবদিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন কুতুবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ২০.০০ লাখ ও ২৫.৫০ লাখ টাকা।

 

নথির ৯ নম্বর ক্রমিকে দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের বাতিঘরপাড়া এলাকায় ২০.০০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কক্সবাজার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিক কমিশনারের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

 

নথির ১০ নম্বর ক্রমিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবলরচর পূর্বপাড়া (আনিছের ডেইল) এলাকায় ১৯.৯০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল আহমদের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ বণ্টন করা হয়েছে। এতে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, সরকারি নথির মন্তব্য অংশেই যখন রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে কাজ বণ্টনের তথ্য দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই পক্ষপাতিত্বের ধারণা তৈরি হয়।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের কাছে কুতুবদিয়া দ্বীপের চারপাশে জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। পরবর্তীতে ওই কাজের বরাদ্দ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কুতুবদিয়ার বেড়িবাঁধের টাকা বরাদ্দে অভিযোগ তোলপাড়

আপডেট সময় ১১:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ (বাপাউবো)-এর অধীনে কুতুবদিয়া উপজেলায় চলমান উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে চরম দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আপদকালীন জরুরি বাঁধ মেরামত কাজের সরকারি অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পোল্ডার নং-৭১-এর আওতায় অনুমোদিত সবগুলো কাজ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, আলী আকবর ডেইল, কৈয়ারবিল ও দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নে জিওটিউব স্থাপনসহ জরুরি বাঁধ মেরামতের জন্য মোট ১০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

নথিতে উল্লিখিত প্রকল্পভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—

 

নথির ১, ২ ও ৬ নম্বর ক্রমিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বায়ুবিদ্যুৎ এলাকায় দুটি এবং রোমাইপাড়া এলাকায় একটি প্রকল্পের কাজ ‘Nizam’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনটি প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ২৬.৬৪ লাখ, ২৯.৯৯ লাখ এবং ২৯.৯৭ লাখ টাকা। নথির মন্তব্য অংশে সুপারিশকারী হিসেবে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে।

 

নথির ৩ নম্বর ক্রমিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বায়ুবিদ্যুৎ এলাকার একটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমের নাম উল্লেখ রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৯.৯৯ লাখ টাকা।

নথির ৪ ও ৫ নম্বর ক্রমিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বায়ুবিদ্যুৎ এলাকায় দুটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রেদওয়ানের নাম রয়েছে। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ১৯.৮১ লাখ ও ২৭.৪৫ লাখ টাকা।

 

নথির ৭ ও ৮ নম্বর ক্রমিকে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া এবং দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের বাতিঘরপাড়া এলাকায় দুটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কুতুবদিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন কুতুবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলিত ব্যয় যথাক্রমে ২০.০০ লাখ ও ২৫.৫০ লাখ টাকা।

 

নথির ৯ নম্বর ক্রমিকে দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের বাতিঘরপাড়া এলাকায় ২০.০০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কক্সবাজার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিক কমিশনারের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

 

নথির ১০ নম্বর ক্রমিকে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবলরচর পূর্বপাড়া (আনিছের ডেইল) এলাকায় ১৯.৯০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল আহমদের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ বণ্টন করা হয়েছে। এতে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, সরকারি নথির মন্তব্য অংশেই যখন রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে কাজ বণ্টনের তথ্য দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই পক্ষপাতিত্বের ধারণা তৈরি হয়।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের কাছে কুতুবদিয়া দ্বীপের চারপাশে জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। পরবর্তীতে ওই কাজের বরাদ্দ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।