কক্সবাজার ০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে পাঁচ মাসে ৫৩ হত্যা, ৭ ডাকাতি, ১৪ ছিনতাই

নিজস্ব সংবাদদাতা :
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • / ৩১০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

কক্সবাজার জেলায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে ৮ জুন সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। যাওয়ার আগে তারা গৃহবধূ ও তাঁর দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন সমকালকে বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধির তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় অন্তত ১২টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর অধিকাংশই চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ঘটেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ড আটটি।

তবে পুলিশের তথ্যমতে, গত পাঁচ মাসে চকরিয়ায় দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পেকুয়ায় কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের জারুলবনিয়া এলাকার মোহাম্মদ সাকিবের বসতঘরে গত শুক্রবার রাতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এর পর মোবাইল ফোন, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। মোহাম্মদ সাকিব পেকুয়ার শীলখালী ইউনিয়নের ছাত্রদলের সদস্য সচিব। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ পুলিশকে ফোন করা হয়। পেকুয়া থানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, পরে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত ডিসেম্বর মাসে একটি ডাকাতি, চারটি ছিনতাই ও ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুটি ডাকাতি, চারটি ছিনতাই ও ১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফেব্রুয়ারিতে দুটি ডাকাতি, দুটি ছিনতাই ও ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। মার্চে দুটি ডাকাতি, তিনটি ছিনতাই ও ১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এপ্রিলে একটি ছিনতাই ও ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ মাসে ডাকাতির ঘটনা নেই।

সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কে দলীয় কার্যালয়ে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি কক্সবাজারে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মাতামুহুরীর পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ের কয়েকজন সন্ত্রাসীর পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন অপরাধীদের ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগে থেকে সচেতন থাকার জন্য উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বলা হলেও পুলিশ কিছু চুনোপুঁটি গ্রেপ্তার করে। বড় সন্ত্রাসীরা অধরা রয়ে যাচ্ছে। ফলে খুন, ডাকাতি ও চুরির মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে।

চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, পুলিশ চিহ্নিত অপরাধীদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। তাই অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর, টেকনাফ, রামু, উখিয়া, কুতুবদিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় গত পাঁচ মাসে সংঘটিত অপরাধের মধ্যে হত্যাকাণ্ড বেশি। এসব ঘটনার পেছনে জমিসংক্রান্ত বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব এবং অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় অন্যতম কারণ। অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধারের ঘটনাও বেড়েছে।

সম্প্রতি আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জেলা সদরের পিএমখালীর পরানিয়াপাড়ায় যুবক মুবিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা, খুরুশকুলের পাহাড়ি এলাকায় মন্দিরের পুরোহিত নয়ন সাধুর লাশ উদ্ধার এবং কলাতলীতে টমটমচালক শওকত আলম হত্যাকাণ্ড। এসব ঘটনায় কিছু সন্দেহভাজন আটক হলেও একাধিক ঘটনায় মূল আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, যেভাবে অপরাধ বাড়ছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। পর্যটননির্ভর একটি জেলার জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন গড়ে শতাধিক আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বেশ কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু কক্সবাজারে পুলিশে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: সমকাল

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে পাঁচ মাসে ৫৩ হত্যা, ৭ ডাকাতি, ১৪ ছিনতাই

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:

কক্সবাজার জেলায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে ৮ জুন সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। যাওয়ার আগে তারা গৃহবধূ ও তাঁর দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন সমকালকে বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধির তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় অন্তত ১২টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর অধিকাংশই চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ঘটেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ড আটটি।

তবে পুলিশের তথ্যমতে, গত পাঁচ মাসে চকরিয়ায় দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পেকুয়ায় কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের জারুলবনিয়া এলাকার মোহাম্মদ সাকিবের বসতঘরে গত শুক্রবার রাতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এর পর মোবাইল ফোন, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। মোহাম্মদ সাকিব পেকুয়ার শীলখালী ইউনিয়নের ছাত্রদলের সদস্য সচিব। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ পুলিশকে ফোন করা হয়। পেকুয়া থানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, পরে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত ডিসেম্বর মাসে একটি ডাকাতি, চারটি ছিনতাই ও ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুটি ডাকাতি, চারটি ছিনতাই ও ১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফেব্রুয়ারিতে দুটি ডাকাতি, দুটি ছিনতাই ও ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। মার্চে দুটি ডাকাতি, তিনটি ছিনতাই ও ১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এপ্রিলে একটি ছিনতাই ও ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ মাসে ডাকাতির ঘটনা নেই।

সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কে দলীয় কার্যালয়ে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি কক্সবাজারে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মাতামুহুরীর পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ের কয়েকজন সন্ত্রাসীর পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন অপরাধীদের ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগে থেকে সচেতন থাকার জন্য উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বলা হলেও পুলিশ কিছু চুনোপুঁটি গ্রেপ্তার করে। বড় সন্ত্রাসীরা অধরা রয়ে যাচ্ছে। ফলে খুন, ডাকাতি ও চুরির মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে।

চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, পুলিশ চিহ্নিত অপরাধীদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। তাই অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর, টেকনাফ, রামু, উখিয়া, কুতুবদিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় গত পাঁচ মাসে সংঘটিত অপরাধের মধ্যে হত্যাকাণ্ড বেশি। এসব ঘটনার পেছনে জমিসংক্রান্ত বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব এবং অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় অন্যতম কারণ। অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধারের ঘটনাও বেড়েছে।

সম্প্রতি আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জেলা সদরের পিএমখালীর পরানিয়াপাড়ায় যুবক মুবিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা, খুরুশকুলের পাহাড়ি এলাকায় মন্দিরের পুরোহিত নয়ন সাধুর লাশ উদ্ধার এবং কলাতলীতে টমটমচালক শওকত আলম হত্যাকাণ্ড। এসব ঘটনায় কিছু সন্দেহভাজন আটক হলেও একাধিক ঘটনায় মূল আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, যেভাবে অপরাধ বাড়ছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। পর্যটননির্ভর একটি জেলার জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, প্রতিদিন গড়ে শতাধিক আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বেশ কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু কক্সবাজারে পুলিশে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: সমকাল