কক্সবাজার ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রিয়াদের সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পাসপোর্ট-ইকামা পুড়ে যাওয়ায় শনাক্তে জটিলতা

সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা

রিয়াদ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৯:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯৬ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আল-শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারখানার একটি অংশে কর্মীদের থাকার ব্যবস্থাও ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে থাকা ১৭ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান ওই সময় চুল কাটাতে বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

 

আগুনের তীব্রতায় নিহতদের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে তাদের পাসপোর্ট ও ইকামা পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, নিহত ১৬ জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বাকি আটজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন হবে।

 

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের নামে মৃত্যু সনদ ইস্যু করবে।

 

নিহতদের অধিকাংশ নওগাঁর

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে আত্রাই ও সদর উপজেলার বাসিন্দার সংখ্যা বেশি। এছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকা এবং রাজশাহী অঞ্চলের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন।

 

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের মাধ্যমে যেসব নাম জানা গেছে, তারা হলেন—ফরিদ শেখ, মো. লুৎফর, কলিমউদ্দিন, মো. মোহন, মো. রুবেল প্রামাণিক, মো. সুমন, মিনহাজ, হৃদয়, শাহীন, আব্দুল জলিল, মজিদুল, সাগর, হাসিবুল হাসান শুভ ও সুমন।

 

তবে মরদেহের পরিচয় সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব নামকে প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের মতামত নেওয়া হবে

অগ্নিকাণ্ডের পর রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সৌদি প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের লিখিত মতামত নেওয়া হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হবে, নাকি বাংলাদেশে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এ ছাড়া নিহতদের পরিবারকে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রিয়াদের সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পাসপোর্ট-ইকামা পুড়ে যাওয়ায় শনাক্তে জটিলতা

সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা

আপডেট সময় ০৯:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আল-শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারখানার একটি অংশে কর্মীদের থাকার ব্যবস্থাও ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে থাকা ১৭ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান ওই সময় চুল কাটাতে বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

 

আগুনের তীব্রতায় নিহতদের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে তাদের পাসপোর্ট ও ইকামা পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, নিহত ১৬ জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বাকি আটজনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন হবে।

 

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের নামে মৃত্যু সনদ ইস্যু করবে।

 

নিহতদের অধিকাংশ নওগাঁর

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে আত্রাই ও সদর উপজেলার বাসিন্দার সংখ্যা বেশি। এছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকা এবং রাজশাহী অঞ্চলের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন।

 

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের মাধ্যমে যেসব নাম জানা গেছে, তারা হলেন—ফরিদ শেখ, মো. লুৎফর, কলিমউদ্দিন, মো. মোহন, মো. রুবেল প্রামাণিক, মো. সুমন, মিনহাজ, হৃদয়, শাহীন, আব্দুল জলিল, মজিদুল, সাগর, হাসিবুল হাসান শুভ ও সুমন।

 

তবে মরদেহের পরিচয় সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব নামকে প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের মতামত নেওয়া হবে

অগ্নিকাণ্ডের পর রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সৌদি প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের লিখিত মতামত নেওয়া হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হবে, নাকি বাংলাদেশে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এ ছাড়া নিহতদের পরিবারকে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।