বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় রাজশাহীতে কলেজ শিক্ষক বরখাস্ত

- আপডেট সময় ১০:৩৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৭৩ বার পড়া হয়েছে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তথা ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী মহাবিদ্যালয়ের এক প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার কলেজের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সাময়িক বরখাস্তের আগে ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সোহেলী আক্তার নন্দনগাছী মহাবিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন তিনি। ফটোকার্ডে বঙ্গবন্ধুর ছবি এবং ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি’ লেখা ছিল। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’।
এর দুই দিন পর সোমবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় কলেজের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ।
কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রভাষক সোহেলী আক্তার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের প্রধানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কেউ এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দিতে পারেন না। কলেজের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়েই কীভাবে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো- এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন সোহেলী আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, এটা আমি জানি না। সাংবাদিকেরা ফোন করার পর জানতে পেরেছি। আমার কী দোষ, সেটাও তো জানি না। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’
তিনি জানান, রোববার তিনি কলেজে
গিয়েছিলেন। সোমবারের জন্য মৌখিকভাবে ছুটি নিয়েছেন।
কলেজের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি ও চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বসে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি।’
তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এটা দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর আরও দোষ আছে।’
সেই দোষগুলো ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভার রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে কি না-জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
















