মহেশখালীর শাপলাপুরে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ১

- আপডেট সময় ০৭:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮৮ বার পড়া হয়েছে
মহেশখালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর এলাকায় দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২১ আগস্ট ২০২৬ রাতে মহেশখালী থানাধীন শাপলাপুর বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, মিঠাছড়ি বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজন একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তিকে আটক করে রেখেছে।
খবর পেয়ে এসআই মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সেখানে আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজের নাম রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি (৩০) বলে জানান। তিনি মহেশখালীর ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রহমত উল্লাহ জানান, কয়েকদিন আগে শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি পশ্চিম পাড়ার পাহাড়ের ভেতরে একটি বাড়ির কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন তিনি। ওই কক্ষে তার সহযোগী নমি উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম মজুদ করে রেখেছে।
বিষয়টি মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সুলতানকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে গ্রেপ্তারকৃত রহমত উল্লাহর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মিঠাছড়ি পশ্চিম পাড়ার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে গ্রেপ্তারকৃত রহমত উল্লাহর দেখানো স্থান থেকে খাটের নিচে রাখা অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—বন্দুকের কাঠের বাট ৪টি, ট্রিগার মেকানিজম ৪টি, অস্ত্র তৈরির ব্যারেলের অংশ ৬টি, অস্ত্রের ট্রিগার ৮টি, রিসিভার কভার সদৃশ অংশ ৫টি, বিভিন্ন আকারের স্প্রিং ১৫টি, অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ১৫টি, লোহার হাতুড়ি ২টি, লেদ মেশিন ১টি, লোহার বাটাল ২টি, লোহার পাইপ ১টি, ড্রিল মেশিন ১টি, স্ক্রু ড্রাইভার ৩টি, করাত ১টি, হাতে চালিত ড্রিল মেশিন ১টি, পরিমাপের স্কেল ১টি, ইলেকট্রিক উড প্ল্যানার ১টি, লোহা কাটার গ্রাইন্ডার ১টি, দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ১টি, বড় টর্চলাইট ১টি, ইলেকট্রিক হ্যাকসো ১টি এবং লোহা কাটার হ্যান্ড করাত ১টি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুই পলাতক আসামির নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি নং-২৫, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬; জিআর-২৫৫/২৬, ধারা—১৯(এ), The Arms Act, 1878।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
















