বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখে ডাকসুর ৩৫ কোটি টাকার কাজ

- আপডেট সময় ১২:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৮৫ বার পড়া হয়েছে
অতিক্রম হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর। ছাত্রশিবিরের সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদ নেতৃত্বাধীন এই ডাকসুর মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। বছর শেষ হতেই ডাকসুর কাজের মূল্যায়ন শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ডাকসু নেতাদের দাবি, সীমিত সুযোগেও শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তারা। বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও এই এক বছরে ডাকসু কাজ করেছে ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সর যোগাড় করে এসব কাজ করা হয়েছে; যা ছাত্র সংসদটির কৃতিত্ব হিসেবেই মনে করছেন তারা।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাদিক-ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই বিজয় অর্জন করে।
ডাকসু শিক্ষার্থীদের আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক হলের রিডিংরুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিভিন্ন হলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়াম, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক চাকরির সুযোগ তৈরির মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
ডাকসু নেতৃবৃন্দদের দাবি, ভার্সিটি প্রশাসন আশানুরূপ বাজেট বা সহযোগিতা না দিলেও বিভিন্ন কর্পোরেট স্পন্সর এবং নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহ করে ছোট-বড় প্রায় ১,০০০টি উদ্যোগ ও কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ছাত্রীদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিমনেশিয়াম
আবাসনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে তিন কোটি টাকা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। মেয়েদের জিমনেশিয়ামের উন্নয়নে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। এছাড়া আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ও অন্যান্য ল্যাব স্থাপনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তাদের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে বলেন, আমরা যে বাজেট পেয়েছি, সেই বাজেটের চাইতে ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছি। আমাদেরকে বাজেট দেওয়া হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা, পরবর্তীতে একদম সর্বশেষ পর্যায়ে এসে আরও ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে হিসাব করলাম—প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ আমরা করেছি। এটা আরও বাড়বে। এটি হয়েছে শুধুমাত্র স্পন্সর ম্যানেজ করে। এর বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮-৪৯ কোটি টাকার একটা প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে। এরকম অনেক বড় বড় প্রকল্প, চায়না সরকার একটা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য হল তৈরি করে দিচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও ডাকসুর এসব কার্যক্রমকে যেমন সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি আছে সমালোচনাও। সব মিলিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বলছেন, নির্বাচনের আগে বিশাল প্রত্যাশার যে ইশতেহার দেখানো হয়েছিল, তার অনেক কিছুই পূরণ করতে পারেনি ডাকসু।
ঢাবি শিক্ষার্থী ইফতেখার হাসান তানভীরের মতে, বর্তমান ডাকসু এখন পর্যন্ত বেশ সফলভাবেই দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার, দ্রুত সময়ে হলের সিট প্রদান, মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগ নিচতলায় স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়ামের ব্যবস্থা—এসব শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তবে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাকসুর কার্যক্রম নিয়ে তুলনামূলক অসন্তোষ রয়েছে।
নানা উদ্যোগ নিয়ে এসব সমালোচনার মধ্যে ডাকসুকে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের মোকাবেলা করতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছেন, ছাত্র সংসদের কিছু নেতৃবৃন্দ লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলে অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।
কলা অনুষদের শিক্ষার্থী মিরাজ মজুমদার বলেন, ডাকসু প্যানেল দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে কিনা এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭১-এর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিতর্কিত বয়ান তৈরির মতো বিষয়গুলোও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভালোভাবে নেয়নি।
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক ডাকসু ভিপি-জিএসের সাথে কথা বলেছি। ওই সময়ে কমন একটা ট্রেন্ড ছিল নেতারা কাকে ফ্যাসিলিটেট করবে, কাকে কর্নার্ড করবে, মধুর ক্যান্টিন দখল করবে—এ ধরনের একটি পলিটিক্যাল কম্পিটিশন ছিল। ওই সময়ে কয়েকটা ম্যাগাজিন, কালচারাল প্রোগ্রাম এবং সেমিনার-সিম্পোজিয়াম ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু আইওয়াশ মুভমেন্ট—এগুলো রেগুলার ট্রেন্ড ছিল। এখানে রাজনৈতিক আধিপত্যের ট্রেন্ড ছিল।
তিনি বলেন, আমাদের প্যানেলে বাম, সাধারণ এবং স্বতন্ত্র প্যানেল থেকেও প্রতিনিধি এসেছে। অনেক হলে ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা এসেছে। একরকম কম্বাইন্ড প্রতিনিধিত্ব ছিল। আমরা নিজেরাও এটিকে নিজেদের দলের অফিসে রূপ নিতে দেইনি। আমরা চেষ্টা করেছি ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের জন্য বানাতে।
















